13 April 2026

নব্বইয়ের প্রেমে প্রত্যাবর্তন




নব্বইয়ের প্রেমে প্রত্যাবর্তন
আরমান রশিদ 

প্রেম আসে, প্রেম যায়,
সময়ের স্রোতে বদলে যায় তার রঙ,
তবু আমি এ যুগের প্রেমে নই বিশ্বাসী,
কারণ এখানে ভালোবাসা যেন ক্ষণিক ঢঙ।

আজকের প্রেমে শব্দ বেশি, অনুভব কম,
প্রতিশ্রুতির ভিড়ে নেই গভীরতা,
শরীরের উষ্ণতাই যেখানে প্রধান,
মন থাকে অবহেলায় নীরবতা।

তাই চাই না এই সময়ের ভালোবাসা,
চাই ফিরুক নব্বই দশকের দিন,
একটি চিঠিতেই জাগুক স্বপ্ন,
একটি অপেক্ষায় হোক রঙিন চিরদিন।

আমি তোমাকে ভালোবাসতে চাই সেই ছন্দে,
যেখানে স্পর্শের আগে মন ছোঁয়া,
যেখানে বিশ্বাসই ছিল মূল বন্ধন,
আর সমর্পণ ছিল ভালোবাসার বোনা।

10 April 2026

কবিদের জীবন


কবিদের জীবন
আরমান রশিদ 

কবিদের জীবনে প্রেম আসে-যায়,
ক’জন-ই বা চিরকাল পাশে রয়ে যায়?
হৃদয়ের অন্ধকারে হঠাৎ আলো জ্বালায়,
তারপর সেই আলোর দিকেই ছায়া বাড়ায়।

হাত ছুঁয়ে প্রতিশ্রুতির নরম উচ্চারণ,
সময়ের কাছে এসে নীরবতায় হারায়।
কত নাম লেখা থাকে ডায়েরির পাতায়,
শেষে শুধু কালির দাগটুকুই পড়ে রয়।
 
চোখের ভেতর যে স্বপ্ন নদী বয়ে যায়,
তীরভাঙা জলে সব ঠিকানাই ভেসে যায়।
কবি শুধু বসে থাকে শব্দের পাশে,
মানুষগুলো একে একে দূরে সরে যায়।

শেষরাতে প্রশ্নটি আবার ফিরে আসে—
প্রেম কি সত্যিই থাকে, নাকি কেবলই যায়?

08 April 2026

নব্বইয়ের প্রেম


নব্বইয়ের প্রেম
আরমান রশিদ

এ শহরে চোখে চোখে আর গল্প জন্মায় না,
স্পর্শের আগেই সম্পর্ক শেষ, মনটা ধরা পড়ে না।
ভালোবাসা আজ দ্রুত, সময়ের চেয়েও ক্ষণিক,
মনের চেয়ে দেহ আগে, আবেগ থাকে শূন্য-নির্জনিক।

হাসির আড়ালে লুকায় কত চাওয়া-পাওয়ার হিসাব,
কথার ভেতর মেশানো থাকে অদৃশ্য কোনো চাপ।
প্রেম এখন ছবি তোলা, স্ট্যাটাস আর দেখানো,
ভেতরে ভেতরে সম্পর্ক শুধু টিকে থাকার মানানো।

অথচ একদিন প্রেম ছিল চিঠির নরম কাগজে,
অপেক্ষা ছিল বিকেলের রোদে, জানালার সাজে।
একটু দেখা মানেই হৃদয়ে ঢেউ উঠত চুপে,
একটি নামই যথেষ্ট ছিল সারারাতের রূপে।

লজ্জা মাখা চোখের ভেতর সত্যি বাসা বাঁধত,
অল্প ছোঁয়ায় সারা শরীর কেঁপে উঠত নিঃশব্দ।
কথা কম, বিশ্বাস বেশি— এটাই ছিল নিয়ম,
ভালোবাসা মানে ছিল এক জীবনের স্বীকারোক্তি, অনন্ত সংযোগ।

আজও তাই এই সরল মন ভিড়ের মাঝেও একা,
খোঁজে সেই ধীর প্রেম, যেখানে ছিল না ফাঁকা।
যৌনতার শহরে প্রেম যখন মাংস বিলাসী,
হতভাগা মন সেই নব্বই দশকের প্রেমে বিশ্বাসী।

নব্বই দশকের দুপুর


নব্বই দশকের দুপুর
আরমান রশিদ 

নব্বই দশকের সেই নরম দুপুরে,
রোদে ভাসে কাঁচা আমের মিঠে গন্ধ।
তুমি গেলে পথ ধরে, লাজুক সুরে,
বুকের ভেতর জাগে অচেনা এক আনন্দ।

চোখে চোখ পড়িলে থমকে যেত পথ,
কথা বলতে গিয়ে কাঁপিয়া উঠিত ভাষা।
দূর হতে দেখাই ছিল গোপন রত্ন-সদৃশ রথ,
নীরবতার মাঝেই গভীর প্রেমের আশা।

স্কুল ছুটির পরে দাঁড়াতাম গোপনে, 
তোমার বাড়ির মোড়ের কাঁঠালগাছের কোনে।
হৃদয় লিখত তোমার নাম নীল খাতায় গোপনে,
স্বপ্নেরা ভাসিত সন্ধ্যার আলোর প্রাণে।

ডাকপিয়নের ব্যাগে লুকানো চিঠি, 
নীল কাগজে কাঁপা অক্ষর সারি সারি।
একটি শব্দ “ভালো আছি” পেলেই ভরেওঠে মন,
হতো সারা সপ্তাহ জুড়ে আলোর ধারা ভারী। 

স্পর্শহীন প্রেম ছিল নির্মল নীর, 
লুকিয়ে দেখা মানেই ছিল মনের উৎসব।
সেই দুপুর আজও হৃদয়ে রয়েছে স্থির, 
সময় বদলায় শুধু, বদলায় না সেই তীর।

07 April 2026

সাদিয়া খালিদ রীতি: সমকালীন কণ্ঠের এক উজ্জ্বল উপস্থিতি


সাদিয়া খালিদ রীতি: সমকালীন কণ্ঠের এক উজ্জ্বল উপস্থিতি
আরমান রশিদ


একজন তরুণী কীভাবে আত্মবিশ্বাস আর পরিশ্রম দিয়ে গণমাধ্যমে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তোলে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে যে নামটি সামনে আসে, তিনি হলেন সাদিয়া খালিদ রীতি। সমকালীন গণমাধ্যমে সক্রিয় এই তরুণ ব্যক্তিত্ব উপস্থাপনা দক্ষতা, স্পষ্ট উচ্চারণ এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির মাধ্যমে অল্প সময়েই নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।

রীতির পরিচয়ের মূল ভিত্তি তার যোগাযোগ দক্ষতা। ক্যামেরার সামনে তার সাবলীলতা এবং পরিমিত অভিব্যক্তি তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। উপস্থাপনার সময় তিনি কেবল স্ক্রিপ্ট পড়েন না, বরং বিষয়বস্তুকে নিজের মতো করে গ্রহণ করে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করেন। ফলে তার কথা বলার ভঙ্গিতে থাকে স্বাভাবিকতা এবং আন্তরিকতা।

তার ব্যক্তিত্বে একটি ভারসাম্য লক্ষ করা যায়—আত্মবিশ্বাস আছে, তবে অতিরঞ্জন নেই; দৃঢ়তা আছে, তবে অহংকার নেই। এই সংযমই তাকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

সাদিয়া খালিদ রীতি বিভিন্ন মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে উপস্থাপনা ও কনটেন্টভিত্তিক কাজে যুক্ত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট উপস্থাপন এবং জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমে তার অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

তার দক্ষতার কয়েকটি দিক উল্লেখযোগ্য: স্পষ্ট ও শুদ্ধ উচ্চারণ, ক্যামেরা-ফ্রেন্ডলি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সক্ষমতা, বিষয় অনুযায়ী টোন ও অভিব্যক্তি পরিবর্তনের ক্ষমতা। এই গুণগুলো একজন সফল উপস্থাপকের জন্য অপরিহার্য, এবং রীতির ক্ষেত্রে সেগুলোর সুস্পষ্ট প্রয়োগ দেখা যায়।

বর্তমান সময়ের গণমাধ্যম কেবল টেলিভিশন বা মঞ্চকেন্দ্রিক নয়; ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রীতি এই বাস্তবতাকে বুঝে নিজেকে সময়োপযোগীভাবে উপস্থাপন করেছেন। তার কনটেন্টে থাকে আত্মপ্রকাশ, পেশাগত সচেতনতা এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ভাবনা।

তরুণ প্রজন্মের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতার একটি বড় কারণ হলো তার স্বাভাবিক ও সংযুক্ত উপস্থিতি। তিনি নিজেকে এমনভাবে তুলে ধরেন, যাতে দর্শক দূরত্ব অনুভব না করে।

সাদিয়া খালিদ রীতির পথচলা একটি বার্তা দেয়—মিডিয়ায় জায়গা করে নিতে কেবল পরিচিতি নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিক চর্চা, আত্মবিশ্বাস এবং পেশাদার মনোভাব। যারা উপস্থাপনা, গণমাধ্যম বা কনটেন্ট ক্রিয়েশনে আগ্রহী, তাদের জন্য তার কাজ একটি বাস্তব উদাহরণ।

সাদিয়া খালিদ রীতি নতুন প্রজন্মের এমন একটি মুখ, যিনি প্রমাণ করেছেন যে পরিকল্পিত পরিশ্রম এবং নিজস্ব স্টাইল থাকলে গণমাধ্যমে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করা সম্ভব। তার যাত্রা এখনও চলমান, এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে তাকে দেখা যাবে—এমন প্রত্যাশা করাই স্বাভাবিক।


05 April 2026

ভালোবাসার পরিমাপ


ভালোবাসার পরিমাপ
আরমান রশিদ

আমি তোমাকে যে পরিমাণ যত্ন নিয়ে ভালোবেসেছি,
সেই পরিমাণ যত্ন দিয়ে নিজেকেও ভালোবাসিনি। 
তোমার সামান্য কষ্টে যেমন অস্থির হয়ে উঠেছি, 
নিজের ব্যথাগুলো নিয়ে তেমন করে কখনো ভাবিনি।

তোমার জন্য রাত জেগে স্বপ্ন বুনেছি,
নিজের স্বপ্নগুলোকে রেখেছি অন্ধকারে।
তোমার হাসি দেখার জন্য সব ভুলেছি,
নিজের কান্নাগুলো গোপন করেছি আধারে।

তোমার পথের কাঁটা সরাতে গিয়ে,
নিজের পায়ে কাঁটা বিঁধেছে কতবার।
তবুও থামিনি, ফিরেও তাকাইনি,
কারণ তোমাকেই ভেবেছি আমার সংসার।

আজ বুঝি, ভালোবাসা যদি সত্যি হয়,
তবে তাতে নিজের জন্যও একটু জায়গা রাখে।
যে হৃদয় অন্যকে এতটা আপন করে,
সে হৃদয় তো একদিন নিজেকে আপন করতে শেখে।

তাই যদি কখনো ক্লান্ত হয়ে পড়ি,
জেনে রেখো, সেটা ভালোবাসা কমে যাওয়ার জন্য নয়।
শুধু শিখছি, তোমাকে কেমনে আগলে রাখতে পারি,
নিজেকেও তেমন ভাবে ভালোবাসতে হয়।

04 April 2026