26 July 2026

বাতাসের কাছে রেখে যাওয়া নাম


বাতাসের কাছে রেখে যাওয়া নাম

আরমান রশিদ


আজ ভোরে বাতাস এল ধানের শিষ ছুঁয়ে, অচেনা এক সুরে,
মনে হলো, সে বহু দূরের কোনো গ্রাম থেকে ফিরেছে।
তার হাতে ছিল শুকনো বকুলের গন্ধ, ভেজা নদীর শ্বাস,
আর একটি নাম, যা সে উচ্চারণ করল না।

হিজলপাতা মৃদু কেঁপে উঠল তার অদৃশ্য পদচারণায়,
শালিকেরা থেমে গেল তারের ওপর অসমাপ্ত গানের মতো।
নদী একবার শুধু মুখ তুলে তাকাল আকাশের দিকে,
তারপর আবার স্রোতের ভেতর ডুবিয়ে রাখল নিজের ভাষা।

আমি বাতাসকে কিছুই জিজ্ঞেস করিনি,
কারণ সে জানে, উত্তর দিলে কিছু রহস্য ভেঙে যায়।
শুধু দেখলাম, শুকনো পাতাগুলো উড়ে উড়ে
একটি অদেখা বৃত্ত এঁকে আবার মাটিতেই ফিরে এল।

আজ বুঝি, মানুষের নাম পাথরে নয়, বাতাসেই লেখা উচিত,
কারণ পাথর ভেঙে যায়, বাতাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম গল্প বহন করে।

23 July 2026

শেষ প্রদীপ


শেষ প্রদীপ

আরমান রশিদ


সাঁঝ নেমে এলে উঠোনের কোণে একটি প্রদীপ জ্বলে,
তার শিখা জানে, রাতকে জয় করা তার উদ্দেশ্য নয়।
সে শুধু অল্প আলোয় চিনিয়ে দেয় দরজার পুরোনো কাঠ,
আর বহুদিন না-খোলা জানালার নীরব কাচ।

দূরের বাঁশবনে বাতাস আজ খুব ধীরে কথা বলে,
মনে হয়, শব্দও কখনো ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম চায়।
পুকুরের জলে একটি তারা নেমে এসে ভেঙে যায়,
তবু আকাশের মুখে কোনো বিষাদের রেখা পড়ে না।

আমি প্রদীপের পাশে বসে হাত বাড়াই না,
আলোকে ছুঁতে গেলে তার নিঃসঙ্গতা ভেঙে যায়।
কিছু সান্নিধ্য দূরত্বেই সবচেয়ে উজ্জ্বল থাকে,
যেমন সুগন্ধ থাকে, অথচ ফুলটি আর চোখে পড়ে না।

রাত গভীর হলে প্রদীপ নীরবে তার আলো গুটিয়ে নেয়,
শুধু উষ্ণতাটুকু রেখে যায়, যেন কোনো অসমাপ্ত প্রার্থনা।

21 July 2026

যেখানে বাতাস তোমার নাম জানে


যেখানে বাতাস তোমার নাম জানে
আরমান রশিদ

বহু ঋতু পেরিয়ে আজ আবার সেই পুরোনো পথের ধারে,
বটগাছটি এখনো সন্ধ্যার ছায়া গুনে রাখে নীরবে।
নদী তার স্রোতে বহু নাম ভাসিয়ে দিয়েছে দূরে,
তবু কিছু উচ্চারণ তলদেশ ছেড়ে কোথাও যায়নি।

শিউলি ঝরে, কদম ফোটে, হেমন্ত আবার ধান পাকে,
শীতের কুয়াশা ভোরের জানালায় সাদা চিঠি রেখে যায়।
জোনাকি অন্ধকারে ক্ষুদ্র আলো তুলে বলে,
হারিয়ে যাওয়া মানেই আকাশ থেকে মুছে যাওয়া নয়।

আমি আর কোনো প্রতীক্ষার হিসাব রাখি না,
সময়কে তার নিজের নদীর মতো বয়ে যেতে দিই।
যা ছিল, তা ঋতুর ভেতর রয়ে গেছে;
যা নেই, তা বাতাসের মতো পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে আছে।

আজ বুঝি, মানুষ চলে যায়, ঋতু বদলে যায়, নদীও পথ পাল্টায়,
তবু যেখানে বাতাস তোমার নাম জানে, সেখানে কোনো বিদায় শেষ বিদায় নয়।

18 July 2026

প্রিয় ফুল


প্রিয় ফুল
আরমান রশিদ


চোখের ভেতর স্বপ্ন ছিল, ছিল তোমার ঘর,
ভেবেছিলাম পাশাপাশি কাটবে জীবনভর।
সময় এসে নীরব হাতে লিখল অন্য ভাগ্য,
এক নিমেষে ভেঙে দিল হৃদয়ের সব আগ্রহ।

যে পথ ধরে হেঁটেছিলাম দু'জন পাশাপাশি,
আজ সে পথে একাই হাঁটি, নেই তোমার হাসি।
স্মৃতিরা সব ঝরে পড়ে শুকনো পাতার মতো,
নীরব রাতে কান্নাগুলো জাগিয়ে রাখে কত।

জীবন এখন ফুলে ভরা, তবু রঙহীন দিন,
সব পেয়েও হারিয়ে ফেলি বেঁচে থাকার ঋণ।
হাজার সুখের ভিড়ের মাঝেও শূন্য লাগে বারবার,
কারণ তুমি হারিয়ে গেছ, হারিয়েছে আমার সংসার।

গোটা একটা বাগানও বৃথা আমার কাছে,
যখন প্রিয় ফুলটাই নেই তার মাঝে।

16 July 2026

আমৃত্যু মনে থাকবে


আমৃত্যু মনে থাকবে
আরমান রশিদ 


তুমি ছিলে ভোরের আলো, আমি নিশির ছায়া,
তোমায় ছুঁতে গিয়েই শুধু বেড়েছে নিরাশা।
শিশিরভেজা স্বপ্নগুলো রৌদ্রে হলো ক্ষয়,
তবু তোমার স্মৃতি আমার হৃদয় ছেড়ে নয়।

তুমি ছিলে নদীর স্রোত, আমি নীরব তীর,
তোমার ছোঁয়ার আশায় ছিল দিনগুলো অধীর।
সাগর ডেকে নিল তোমায় আপন বুকে টেনে,
আমি রইলাম বালুচরে তোমার নামই গেঁথে।

তুমি ছিলে পূর্ণিমা-চাঁদ, আমি আঁধার রাত,
তোমার আলো হারিয়েই বাড়ল বুকের ক্ষত।
জোনাকিরা শেখায় আমায় অন্ধকারের হাসি,
আমি শুধু তোমার স্মৃতি বুকে নিয়ে ভাসি।

তুমি ছিলে বকুলফুলের সুবাসভরা ডাল,
আমি যেন ঝরাপাতার নিঃস্ব নীরব কাল।
বসন্ত এল তোমার ঘরে রঙিন সুখের বেশে,
আমার ঋতু কাঁদতে শিখল শূন্যতারই শেষে।

তুমি ছিলে প্রদীপশিখা, আমি পোড়া সালতে,
জ্বলতে জ্বলতে শিখে গেলাম অশ্রু লুকিয়ে ফেলতে।
ছাইয়ের নিচে আগুন যেমন নীরব জেগে রয়,
আমার প্রেমও তেমনি আজ, নিভেও শেষ না হয়।

তুমি ছিলে নীল আকাশের উদাস সাদা মেঘ,
আমি ছিলাম পথিক শুধু, ক্লান্ত দিনের রেশ।
বৃষ্টি হয়ে ঝরলে তুমি অন্য কারও দ্বারে,
আমার আকাশ রইল শুধু বিদ্যুৎহারা ভারে।

যদি কোনো গভীর রাতে জেগে ওঠে মন,
স্মৃতির পাতা উল্টে দেখো হারানো সেই ক্ষণ।
দেখবে সেখানে লিখে রাখা একটিমাত্র নাম,
যে ভালোবেসে হারিয়েছিল জীবনেরই দাম।

পাওয়া যদি প্রেমের শেষ, হারানো তার প্রাণ,
অপূর্ণতাই অমর করে ভালোবাসার গান।
আমি মিশে যাব একদিন ধূলিরই অন্তরালে,
তবু তুমি আমৃত্যু থাকবে আমার হৃদয়তলে।

15 July 2026

কুয়াশার চিঠি


কুয়াশার চিঠি
আরমান রশিদ

রাতের শেষ প্রহরে কুয়াশা নামে নীরব অক্ষরে,
জানালার কাচে রেখে যায় অচেনা কিছু সাদা পঙ্‌ক্তি।
আমি পড়তে যাই, অথচ শব্দগুলো ভোরের আলোয় মিশে যায়,
শুধু তোমার নামটি থেকে যায় শিশিরের মতো স্বচ্ছ।

দূরের তালগাছ স্থির, যেন বহুদিন কারও প্রতীক্ষায়,
নদীর বুকেও আজ অকারণ ঢেউয়ের অন্যমনস্কতা।
বাতাসের হাতে উড়ে আসে শুকনো কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি,
মনে হয়, ঋতুও বুঝি তোমার অনুপস্থিতি শিখে ফেলেছে।

একটি সাদা বক একা উড়ে যায় পশ্চিমের আকাশ পেরিয়ে,
তার ডানায় বিকেলের নিঃসঙ্গ আলো কেঁপে ওঠে।
আমি জানি, কিছু যাত্রা ফিরে আসার জন্য নয়,
তবু প্রতিটি পথের শেষে তোমারই ছায়া দাঁড়িয়ে থাকে।

আজও ভোর হলে কুয়াশা আমার দরজায় একটি চিঠি রেখে যায়,
খুলি না কখনো, কারণ জানি, ভেতরে শুধু তোমারই নীরবতা লেখা।

14 July 2026

পূর্ণিমার গন্ধ


পূর্ণিমার গন্ধ
আরমান রশিদ

আজও পূর্ণিমা উঠলে বাতাসে তোমার নামের গন্ধ পাই,
জোছনার সাদা আলো নেমে আসে অচেনা এক অভিসারে।
নদী থমকে শোনে, কে যেন নীরবে তোমাকে ডাকে,
কাশফুল কেঁপে ওঠে অদৃশ্য কোনো স্পর্শের ইশারায়।

শিউলি-ভেজা ভোরে ঘাসের বুকে শিশির হয়ে জাগো,
পাখির প্রথম ডাকে তোমার নীরবতা মিশে যায়।
বটের ছায়ায় বসে থাকা বিকেল হঠাৎ দীর্ঘ হয়,
যেন সময়ও তোমার প্রতীক্ষায় পথ ভুলে দাঁড়িয়ে থাকে।

আমি আকাশে তাকাই না, তবু আকাশ নেমে আসে চোখে,
চাঁদকে দেখি না, দেখি তোমার অনামা আলোর অবয়ব।
বৃষ্টি থেমে গেলে মাটির গন্ধে তুমি ধীরে ধীরে ফুটে ওঠো,
যেন পৃথিবী তোমার স্মৃতি লুকিয়ে রেখেছে গভীরতম স্তরে।

ভালোবাসা বুঝি কোনো মানুষের নাম নয়, এক অনন্ত ঋতু,
যেখানে তুমি না থাকলেও, তোমার আলোয় আজও জেগে থাকে পৃথিবী।

13 July 2026

স্বপ্নের দীপ


স্বপ্নের দীপ
আরমান রশিদ

স্বপ্ন কেন ডাকে আমায় নীল আকাশের পানে,
রঙিন মেঘের ভেলায় ভাসায় অচিন সুখের গানে।
সেখানে নেই দুঃখের ছায়া, নেই বিরহের রাত,
আশার ফুলে ভরে থাকে অনন্ত প্রভাত।

হঠাৎ দেখি ভোরের আলো জানায় নীরব বাণী,
"পথের শেষে ফুলই শুধু ফুটে থাকে না জানি।"
কাঁটার সাথেই পথ চলিলে পাবে জীবনের মান,
অশ্রু মেখে ফুটবে শেষে বিজয়-শুভ্র গান।

ঝড়ের বুকে প্রদীপ যেমন নিভে গিয়েও জ্বলে,
মানুষ তেমনি দাঁড়ায় আবার ব্যথার গভীর তলে।
হারিয়ে গিয়েও খুঁজে নেয় সে নতুন দিনের দিশা,
শুকনো ডালে জেগে ওঠে বসন্তেরই আশা।

নদী যেমন সাগর-পানে ক্লান্তিহীন ধায়,
অন্ধকারে চাঁদের আলো পথের কথা গায়।
তেমনি হৃদয় ভাঙুক যদি শত দুঃখের ঘায়ে,
তবু আশা বেঁচে থাকে নীরব আলোর ছায়ে।

স্বপ্ন আকাশ, বাস্তব যেন মাটির গভীর টান,
দুয়ের মাঝে মানুষ লেখে অনন্ত জীবনের গান।
যে অশ্রুকে শক্তি করে, আঁধার ভেঙে দীপ জ্বালে,
সময় একদিন তারই নামে বিজয়ের মালা গাঁথে।

অনুচ্চারিত তুমি


অনুচ্চারিত তুমি
আরমান রশিদ

তোমাকে বলার ছিল এক সমুদ্র নীরবতার কথা,
তবু ঠোঁট ছুঁয়ে সব শব্দ ফিরে গেছে বাতাসে।
ভোরের প্রথম শিশির যেমন ঘাসে রেখে যায় ব্যথা,
তেমনি তুমি মিশে আছ আমার প্রতিটি নিশ্বাসে।

কাশবনের সাদা ঢেউ জানে তোমার নিঃশব্দ নাম,
শিউলি-ঝরা ভোর জানে কতবার ডেকেছি তোমায়।
নদী আজও সাগর পেলে খুলে দেয় বুকের অবিরাম,
আমি শুধু নীরব হয়ে শিখেছি হারিয়েও ভালোবাসায়।

পূর্ণিমার আলো নামে, জানালায় তোমার মুখের আভা,
কুয়াশা এসে ধীরে ধীরে তোমার অবয়ব এঁকে যায়।
জোনাকির ক্ষুদ্র আলোয় দেখি হারানো দিনের দাবি,
বৃক্ষের শিকড়ের মতো স্মৃতি মাটির গভীরে নেমে যায়।

তুমি দূরে নও, শুধু অন্য এক ঋতুর আকাশে বাস করো,
আর আমি প্রতিটি ভোরে তোমার নামের আলোয় নীরবে জেগে উঠি।

12 July 2026

অপ্রত্যাশিত আগমন


অপ্রত্যাশিত আগমন
আরমান রশিদ

কোন ঋতুর গোপন ডাকে তুমি নেমেছিলে আমার আকাশে,
মেঘভাঙা আলোর মতো, নামহীন কোনো শুভ্র সকালে।
শিশিরে ভেজা ঘাস জানত তোমার পদধ্বনির ভাষা,
আর কাশফুল দুলে উঠেছিল অকারণ উল্লাসে।

আমি তখন শুকনো নদী, পাথর ছোঁয়া নিঃসঙ্গ স্রোত,
বাতাসে উড়ে যাওয়া পাতার মতো অনিশ্চিত দিন।
তুমি এলে, বনভূমির গভীরে জ্বলে ওঠা জোনাকির মতো,
নীরবতাকেও শিখিয়ে দিলে আলো হয়ে বেঁচে থাকতে।

তারপর একদিন হেমন্ত এলো কুয়াশার সাদা চাদর মেলে,
পাখিরা দূর দিগন্তে হারাল, নদী ভুলল তারই গান।
তুমিও চলে গেলে, যেন অস্তরাগের শেষ রঙটি মুছে যায়,
তবু তোমার স্পর্শ লেগে রইল প্রতিটি সন্ধ্যার প্রাণে।

আজও পূর্ণিমা উঠলে বাতাসে তোমার নামের গন্ধ পাই,
অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা বোধহয় ঝরে না, বৃক্ষের শিকড় হয়ে মাটির গভীরে বেঁচে থাকে।

11 July 2026

নীরব প্রস্থান


নীরব প্রস্থান
আরমান রশিদ

হঠাৎ করে কেউ তো ভালোবাসা ছেড়ে যায় না,
নীরব কৌশলে শুধু দূরত্ব বাড়িয়ে যায়।
সময়ের হিসাব বদলে, কথার উষ্ণতা হারায়,
চোখে চোখ রাখলেও আর ভালোবাসা ধরা দেয় না।

তুচ্ছ অজুহাতে জমে ওঠে অকারণ বিরক্তি,
আমার উপস্থিতিও যেন হয়ে ওঠে তার ক্লান্তি।
প্রতিটি অবহেলায় নিঃশব্দে ভাঙে বিশ্বাস,
তবু বুকের ভেতর বাঁচিয়ে রাখি শেষ আশ্বাস।

একদিন ক্লান্ত হয়ে আমিই বলি, "থাক, আর নয়",
সে তখন নীরব হাসিতে জিতে নেয় বিদায়ের ক্ষয়।
বলেই ফেলে, "সম্পর্কটা তুমি ভেঙেছ, আমি নই",
সযত্নে লুকিয়ে রাখে তার সব অভিনয়।

যে হাত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অনেক আগে,
দোষটুকু শুধু আমার কাঁধে রেখেই চলে যায় অনায়াসে।

09 July 2026

Forever With You


Forever With You

By 

Arman Rashid


I do not know if I need happiness,
Or if my heart can ever be complete;
But when you're here, my fears become much less,
And every day with you feels calm and sweet.

I do not dream of riches or of fame,
I only want to hold your hand each day;
The world may change, but I stay just the same,
My love for you will never fade away.

If life is hard and all the skies turn gray,
I'll still be smiling if you're by my side;
No matter what tomorrow brings our way,
With you is where I'll always choose to hide.

I don't know if I want to be happy too,
I only want forever with you.

07 July 2026

যে চোখ ঘুম কেড়ে নিল


যে চোখ ঘুম কেড়ে নিল
আরমান রশিদ


দেখিনি তোমায় আমি, দেখেছি শুধুই চোখ,
সেই দৃষ্টির মায়াতেই হারিয়েছি নিজেকে।
মনে হলো, কত জন্মের অসমাপ্ত পরিচয়,
অথচ নামটুকুই তো জানা হলো না আজও।

সেদিনের সেই চাহনি আজও মোর ঘুম ভাঙায়,
রাত গভীর হলে, সেই মায়া নীরবে জেগে রয়।
ভুলতে চাই শতবার, তবু নিয়তির মতো
ফিরে আসে সেই চোখ হৃদয়ের আয়নায়।

জানি, তোমার মনে আমার কোনো ঠিকানা নেই,
আমার তরে থমকে থাকার কোনো কারণও নেই।
তবু কেন প্রতিটি প্রার্থনার শেষে
তোমারই দুটি চোখ ভেসে ওঠে নিদ্রাহারা পাতায়?

বলতে পারো, এ যদি প্রেম না হয়, তবে কী - 
কেন এক পলকের দৃষ্টিই আজীবনের প্রতীক্ষা লিখে গেল?


04 July 2026

নীরব অভিশাপ


নীরব  অভিশাপ
আরমান  রশিদ


মানুষের চোখের জলকে কখনো তুচ্ছ ভেবো না,
নীরব অশ্রুরও থাকে হাজার না-বলা ভাষা।
যে কান্নার কারণ আজ তুমি, ভুলে যেও না তাই,
সময়ের খাতায় প্রতিটি অশ্রুর হিসাব লেখা ভাই।

কষ্ট দিয়ে জয়ী হলে, সে জয় ক্ষণিকেরই হয়,
বিবেকহীন সেই বিজয়ে থাকে না কোনো পরিচয়।
অন্যের বুকে এঁকে দিও না দীর্ঘশ্বাসের দাগ,
একদিন সেই ব্যথাই হবে তোমার জীবনের ভার।

পৃথিবী সব অন্যায়ের বিচার নাও করতে পারে,
তবু স্রষ্টা আর সময় নীরবে সবই ধরে।
অন্যের হৃদয় ভেঙে গড়ো না সুখের প্রাসাদখানি,
ভাঙা হৃদয়ের আর্তনাদ ফিরে আসে নীরব বাণী।

ভালোবাসা দিলে ভালোবাসাই ফিরে আসে আবার,
সম্মান দিলে সম্মান মেলে, আলোকিত হয় সংসার।
দুঃখ দিয়ে হাসলে যদি, ভেবো না শেষ হয়েছে সব,
নীরব অশ্রুর অভিশাপ একদিন দেবে কঠিন জবাব।

তাই মানুষকে মানুষ ভেবেই ভালোবাসতে শেখো,
কারও চোখে অকারণে অশ্রুর নদী রেখো না।
কারণ নীরব কান্নারও আছে অসীম শক্তির ডাক,
সময় এলে সেই নীরবতাই সত্যের দুয়ার খোলে এক।


01 July 2026

অশ্রুর হিসাব


অশ্রুর হিসাব
আরমান রশিদ


তুচ্ছ ভেবে চলে গেলে, ফিরেও চাওনি আর,
নীরব থেকে সয়েছি আমি বুকের সব ভার।
অভিমানকে সঙ্গী করে কেটেছে কত কাল,
তবু মুখে বুনিনি কোনো প্রতিশোধের জ্বাল।

আমার চোখের একফোঁটা জল ঝরে না অকারণে,
প্রতি বিন্দু লিখে রাখে নীরব এক স্মরণে।
যে-ই হয় সে অশ্রুর নীরবতম কারণ,
সময় তার ফিরিয়ে নেয় অমূল্য কিছু ক্ষণ।

এ যে কোনো অভিশাপ নয়, কর্মেরই বিধান,
যেমন বপন তেমনি ফলে এ জীবনের বিধান।
অশ্রুর দাম বোঝে শুধু নীরব মহাকাল,
ন্যায়ের পাল্লা শূন্য থাকে নাকো চিরকাল।