বাতাসের কাছে রেখে যাওয়া নাম
আরমান রশিদ
আজ ভোরে বাতাস এল ধানের শিষ ছুঁয়ে, অচেনা এক সুরে,
মনে হলো, সে বহু দূরের কোনো গ্রাম থেকে ফিরেছে।
তার হাতে ছিল শুকনো বকুলের গন্ধ, ভেজা নদীর শ্বাস,
আর একটি নাম, যা সে উচ্চারণ করল না।
হিজলপাতা মৃদু কেঁপে উঠল তার অদৃশ্য পদচারণায়,
শালিকেরা থেমে গেল তারের ওপর অসমাপ্ত গানের মতো।
নদী একবার শুধু মুখ তুলে তাকাল আকাশের দিকে,
তারপর আবার স্রোতের ভেতর ডুবিয়ে রাখল নিজের ভাষা।
আমি বাতাসকে কিছুই জিজ্ঞেস করিনি,
কারণ সে জানে, উত্তর দিলে কিছু রহস্য ভেঙে যায়।
শুধু দেখলাম, শুকনো পাতাগুলো উড়ে উড়ে
একটি অদেখা বৃত্ত এঁকে আবার মাটিতেই ফিরে এল।
আজ বুঝি, মানুষের নাম পাথরে নয়, বাতাসেই লেখা উচিত,
কারণ পাথর ভেঙে যায়, বাতাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম গল্প বহন করে।















