10 September 2026

প্রার্থনার শেষ শব্দ


প্রার্থনার শেষ শব্দ
আরমান রশিদ

তোমাকে ভালোবাসি বলেই,
প্রতিদিন নতুন করে বাঁচতে শিখি।
তোমার একটুখানি হাসির কাছে,
আমার সমস্ত অভিমান রাখি।

তুমি কাছে থাকলে সময় থেমে যায়,
নীরবতাও হয়ে ওঠে গান।
তোমার চোখে হারিয়ে গিয়ে,
খুঁজে পাই আমার আপন প্রাণ।

তুমি শুধু ভালোবাসা নও,
তুমি আমার প্রার্থনার শেষ শব্দ।
যতদিন বুকের ভেতর হৃদয় বাজবে,
ততদিন তোমাতেই থাকবে আমার সমস্ত স্পন্দন।


04 September 2026

শেষ পৃষ্ঠার আগে


শেষ পৃষ্ঠার আগে
আরমান রশিদ 

শৈশব ছিল টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ,
কাগজের নৌকায় ভেসে যেত ছোট্ট স্বপ্ন।
বয়স বাড়ল, বদলে গেল ঘরের ক্যালেন্ডার,
কিছু মানুষ রয়ে গেল শুধু পুরোনো ছবির মতো।

আমার টেবিলে আজও অর্ধেক লেখা পৃষ্ঠা,
কালির নিচে ঘুমিয়ে থাকে কিছু অনুচ্চারিত কথা;
জীবন যেন প্রতিদিন নতুন করে শেখায়,
শেষ বলে কিছু নেই, আছে কেবল বদলে যাওয়া।

কিছু ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না কোনোদিন,
তবু তাদের ছায়া থেকে যায় হৃদয়ের ভাঁজে;
কিছু বিদায় দরজা বন্ধ করে না,
শুধু ঘরের একটি চেয়ার চিরদিন খালি রাখে।

আমি ব্যর্থতাগুলো ফেলে দিইনি পথে,
পুরোনো চিঠির মতো বুকের কাছে রেখেছি;
কারণ ভাঙা স্বপ্নের কাঁচের টুকরোতেই
কখনো কখনো নিজের মুখ সবচেয়ে স্পষ্ট দেখেছি।

আগামীকাল আমার কাছে অচেনা এক দরজা,
তবু তার চাবি আজই গড়ছি নিজের হাতে;
হয়তো ওপারে আলো, হয়তো আরও দীর্ঘ পথ,
তবু থামব না, কারণ পথেই আমি নিজেকে পাই।

আর যদি একদিন আমার সব শব্দ থেমে যায়,
আমার নীরবতাই বলবে, আমি একদিন সত্যিই বেঁচেছিলাম।


24 August 2026

তুমিই আমার শেষ


 তুমিই আমার শেষ
আরমান রশিদ 

তুমি আমার প্রেমজীবনের একমাত্র শেষ ভালোবাসা,
তোমার পরে আর কাউকে দেওয়ার নেই হৃদয়ে কোনো জায়গা।
তুমি একবার ছুটে গেলে, শূন্য হব আমি সারাজীবন,
নতুন কোনো মানুষকে আর ডাকবে না আমার এই মন।

তুমিই আমার শেষ ভরসা, শেষ স্বপ্ন, শেষ আশ্রয়,
তোমার অবহেলায় প্রতিদিন আমি নিঃশেষ হই ক্ষয়।
যদি সামান্য ভালোবাসাও থাকে আমার জন্য তোমার বুকে,
তবে সেটুকু শতভাগ করে নিও, আমাকে রেখো তোমার সুখে।

নাহলে একদিন হারাবে আমায়, ভেঙে যাব নীরবতায়,
হয়তো তোমার কিছুই হবে না, আমি হারাবো নিজেকেই হায়।
আমার জীবনটা আজ আমি সমর্পণ করলাম তোমার হাতে,
তোমার জায়গায় অন্য কাউকে বসাব না কোনোদিন, কোনো রাতে।

আমার শুধু তোমাকেই লাগবে, দ্বিতীয় কোনো অপশন নয়,
তুমি আমার শেষ ভালোবাসা, তোমার পর শুধু নিঃশেষ ক্ষয়।


23 August 2026

বৃষ্টির অনুবাদ


বৃষ্টির অনুবাদ
আরমান রশিদ

বৃষ্টি নামলে দেখি, আকাশ তার নীল চিঠি খুলে দেয়,
পাতার ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকে অচেনা উচ্চারণ।
কদমফুল নীরবে ভিজে ওঠে, যেন বহুদিনের প্রতীক্ষা
আজ জল হয়ে ফিরে এসেছে পৃথিবীর দুয়ারে।

মাটির গন্ধে কে যেন পুরোনো দিনের প্রদীপ জ্বালে,
দূরের বাঁশবনে ভিজে ওঠে অচেনা বিকেলের ছায়া।
ডাহুক ডেকে ওঠে, বিলের জল কেঁপে ওঠে ধীরে,
সময় যেন ভিজে কাপড়ের মতো দড়িতে ঝুলে থাকে।

আমি হাত বাড়াই না, তবু বৃষ্টি এসে ছুঁয়ে যায়,
যেন তোমার অপ্রকাশিত কথারা জল হয়ে নেমেছে।
একটি শুকনো পাতা স্রোতে ভেসে দূরে মিলিয়ে গেলে
মনে হয়, বিদায়ও কখনো কখনো ফুলের মতো নরম।

বৃষ্টি থামলে দেখি, পৃথিবী আগের মতোই আছে,
শুধু আমার ভেতরের ঋতুটি আর আগের জায়গায় নেই।

21 August 2026

যে নক্ষত্র ঝরে না


যে নক্ষত্র ঝরে না
আরমান রশিদ


রাত গভীর হলে আকাশ তার প্রাচীন পাণ্ডুলিপি খুলে দেয়,
নক্ষত্রেরা নীরবে পড়ে শোনায় আলোয়ের বিস্মৃত ইতিহাস।
আমি কোনো নাম খুঁজি না সেই অসীম নীলের ভেতর,
তবু একটি দীপ্তি বারবার আমার দিকে ফিরে তাকায়।

দূরের নদী কালো জল বুকে নিয়ে আকাশকে বহন করে,
স্রোতের ভাঁজে ভাঁজে জমে থাকে অদেখা শতাব্দীর নিঃশ্বাস।
বটের শিকড় অন্ধকার ছুঁয়ে আরও গভীরে নামে,
যেন মাটিও তার নিজস্ব আকাশ খুঁজে বেড়ায়।

হঠাৎ একটি উল্কা ছুটে যায়, সবাই বলে, একটি তারা ঝরল;
আমি জানি, সত্যিকারের নক্ষত্র এভাবে নিভে যায় না।
যারা একদিন আলো হতে শিখেছে, তারা অদৃশ্য হলেও
অন্য কারও পথের ভেতর নীরবে জ্বলে থাকে।

আজ বুঝি, হারিয়ে যাওয়া মানেই শেষ হয়ে যাওয়া নয়,
কিছু নক্ষত্র পৃথিবীতে নামে না, মানুষের আত্মায় আশ্রয় নেয়।

18 August 2026

কদমফুলের ঋতু


কদমফুলের ঋতু
আরমান রশিদ


বর্ষার প্রথম মেঘটি যখন মাঠের ওপর নত হয়ে এল,
কদমগাছ নিঃশব্দে তার গোল সাদা প্রদীপ জ্বালাল।
ভেজা বাতাস পাপড়িগুলো ছুঁয়ে দূরে কোথায় হারাল,
নদী শুধু সেই সুবাস বুকে নিয়ে ধীরে বয়ে চলল।

মাটির গন্ধে জেগে উঠল বহুদিন ঘুমিয়ে থাকা পথ,
ডাহুকের ডাক ভেসে এল বিলের ধূসর জল পেরিয়ে।
আমি বুঝলাম, প্রত্যাবর্তন সবসময় মানুষের হয় না,
কখনো একটি ঋতুই ফিরে এসে অনুপস্থিতির খবর দেয়।

কদমফুল ঝরে পড়ল, কিন্তু সুবাস ঝরল না,
বৃষ্টি থেমে গেল, কিন্তু ভেজা আলো রয়ে গেল পাতায়।
কিছু স্পর্শ পৃথিবী থেকে মুছে যায় সহজেই,
কিছু স্পর্শ বৃক্ষের বলয়ের মতো সময়ের ভেতর বাস করে।

আজও বর্ষা এলে কদমগাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকি,
কারণ কিছু অপেক্ষা শেষ হয় না, তারা ঋতু হয়ে ফিরে আসে।

17 August 2026

16 August 2026

অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা


অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা
আরমান রশিদ


তুমি এসেছিলে, যেন শুকনো নদীতে প্রথম জোয়ারের জল,
কোনো ঘোষণা ছিল না, ছিল না আকাশের পূর্বাভাস।
শুধু বিকেলের আলো হঠাৎ অন্য রঙে ঝুঁকে পড়েছিল,
আর শালিকেরা অকারণ দীর্ঘক্ষণ বসে ছিল তারের পাশে।

তখনও জানতাম না, ঋতুরও গোপন সিদ্ধান্ত থাকে,
কিছু ফুল ফোটে শুধু একটি নাম মনে রাখার জন্য।
তোমার উপস্থিতি ছিল বৃষ্টির আগের মাটির গন্ধের মতো,
দেখা যায় না, অথচ চারদিকে তারই বিস্তার।

একদিন দেখি, পথ একই আছে, শুধু পদধ্বনি নেই,
নদী একই আছে, শুধু স্রোত আর আগের ভাষায় কথা বলে না।
সন্ধ্যার ধোঁয়া উঠতে থাকে কুঁড়েঘরের চুলোর ভেতর থেকে,
আর আমি বুঝি, আগুন নিভলেও উষ্ণতা কিছুক্ষণ থেকে যায়।

তুমি ছিলে আমার জীবনের কোনো ঘটনা নও,
তুমি ছিলে একটি ঋতু, যে চলে গিয়েও গাছের পাতায় রঙ রেখে যায়।

15 August 2026

জানালার ওপারে




জানালার ওপারে
আরমান রশিদ 


একটি জানালা প্রতিদিন সন্ধ্যায় আলো ধরে রাখে,
যদিও ঘরের ভেতর কেউ আর থাকে না।
ধুলো জমে কাচে, তবু আকাশ দেখা যায়,
যেন অপেক্ষারও কোনো শেষ ঠিকানা নেই।

বাইরে একটি গাছ নীরবে বড় হতে থাকে,
তার ডালে পাখিরা আসে, আবার উড়ে যায়।
শীত আসে, পাতারা ঝরে পড়ে উঠোনে,
বসন্ত এসে শূন্য ডালগুলো ফুলে ভরায়।

জানালাটি তবু একই দিকে খোলা থাকে,
যেদিকে একদিন কেউ ফিরে আসার কথা ছিল।
হয়তো অপেক্ষা মানুষকে ধরে রাখে না,
শুধু তার ভেতর একটি দরজা খোলা রাখে।

তাই কেউ ফিরে না এলে পথ মরে যায় না আবার জানালা বন্ধ হয় না, 
কারণ তারা ফিরে আসার জন্য নয় বরং স্মৃতি দেখার জন্য খোলা থাকে।


14 August 2026

নদী জানে


নদী জানে
আরমান রশিদ

নদী জানে, কার নামে ভোরের প্রথম ঢেউ জেগে ওঠে,
কার নীরবতা মিশে থাকে জলের গভীর নীলিমায়।
চরের কাশফুল হেলে পড়ে অকারণে দক্ষিণ হাওয়ায়,
যেন অদৃশ্য কেউ আজও এই পথ দিয়েই হেঁটে যায়।

বক উড়ে গেলে আকাশ কিছুক্ষণ সাদা হয়ে থাকে,
কদমের গন্ধ ভেসে আসে দূরের বর্ষার বন থেকে।
আমি জলের কাছে কোনো প্রশ্ন রাখি না আর,
কারণ স্রোত উত্তর দেয় না, শুধু বয়ে যেতে শেখে।

সন্ধ্যা নেমে এলে জেলের নৌকায় একটি প্রদীপ জ্বলে,
তার আলো নদীর বুকে দীর্ঘশ্বাসের মতো কেঁপে ওঠে।
মনে হয়, পৃথিবীর সব অপেক্ষাই একদিন জল হয়ে যায়,
শুধু কিছু নাম তলদেশের নুড়ির মতো থেকে যায় নীরবে।

যদি কোনো দিন আমাকে খুঁজে না পাও, নদীর ধারে এসো,
বাতাস নয়, স্রোতই তোমাকে আমার শেষ উচ্চারণ শোনাবে।

13 August 2026

07 August 2026

শিউলি ঝরার শব্দ


শিউলি ঝরার শব্দ
আরমান রশিদ 

রাত ফুরোবার আগে শিউলি গাছটি নীরবে হালকা হয়,
মাটি সাদা হয়ে ওঠে কারও অদেখা ফিরে আসায়।
আমি ঝরে পড়ার শব্দ শুনি না, শুনি এক দীর্ঘ নীরবতা,
যেন কোনো নাম আজও ভোরের শিশিরে আশ্রয় চায়।

দূরের বাঁশবনে বাতাস ধীরে ধীরে পথ ভুলে যায়,
নদীর জলে ভাসে আকাশের অপূর্ণ নীল উচ্চারণ।
একটি বক ডানা মেলে পশ্চিমের আলো ছুঁয়ে উড়ে গেলে,
বিকেল তার পেছনে ফেলে যায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার রঙ।

তুমি কি সত্যিই চলে গেছ? নাকি অন্য কোনো ঋতুতে
আমারই মতো দাঁড়িয়ে আছ কাশফুলের সাদা নির্জনতায়?
আজও জানালার পাশে রাখা মাটির প্রদীপটি সন্ধ্যা নামলে
অকারণে জ্বলে ওঠে, যেন তোমার ফেরার খবর জানায়।

আমি আর কাউকে খুঁজি না, শুধু ভোর হলে উঠোনে যাই,
দেখি, শিউলি আজও ঝরে পড়ে; অথচ তোমার অনুপস্থিতি কখনো ঝরে না।

26 July 2026

বাতাসের কাছে রেখে যাওয়া নাম


বাতাসের কাছে রেখে যাওয়া নাম

আরমান রশিদ


আজ ভোরে বাতাস এল ধানের শিষ ছুঁয়ে, অচেনা এক সুরে,
মনে হলো, সে বহু দূরের কোনো গ্রাম থেকে ফিরেছে।
তার হাতে ছিল শুকনো বকুলের গন্ধ, ভেজা নদীর শ্বাস,
আর একটি নাম, যা সে উচ্চারণ করল না।

হিজলপাতা মৃদু কেঁপে উঠল তার অদৃশ্য পদচারণায়,
শালিকেরা থেমে গেল তারের ওপর অসমাপ্ত গানের মতো।
নদী একবার শুধু মুখ তুলে তাকাল আকাশের দিকে,
তারপর আবার স্রোতের ভেতর ডুবিয়ে রাখল নিজের ভাষা।

আমি বাতাসকে কিছুই জিজ্ঞেস করিনি,
কারণ সে জানে, উত্তর দিলে কিছু রহস্য ভেঙে যায়।
শুধু দেখলাম, শুকনো পাতাগুলো উড়ে উড়ে
একটি অদেখা বৃত্ত এঁকে আবার মাটিতেই ফিরে এল।

আজ বুঝি, মানুষের নাম পাথরে নয়, বাতাসেই লেখা উচিত,
কারণ পাথর ভেঙে যায়, বাতাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম গল্প বহন করে।

23 July 2026

শেষ প্রদীপ


শেষ প্রদীপ

আরমান রশিদ


সাঁঝ নেমে এলে উঠোনের কোণে একটি প্রদীপ জ্বলে,
তার শিখা জানে, রাতকে জয় করা তার উদ্দেশ্য নয়।
সে শুধু অল্প আলোয় চিনিয়ে দেয় দরজার পুরোনো কাঠ,
আর বহুদিন না-খোলা জানালার নীরব কাচ।

দূরের বাঁশবনে বাতাস আজ খুব ধীরে কথা বলে,
মনে হয়, শব্দও কখনো ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম চায়।
পুকুরের জলে একটি তারা নেমে এসে ভেঙে যায়,
তবু আকাশের মুখে কোনো বিষাদের রেখা পড়ে না।

আমি প্রদীপের পাশে বসে হাত বাড়াই না,
আলোকে ছুঁতে গেলে তার নিঃসঙ্গতা ভেঙে যায়।
কিছু সান্নিধ্য দূরত্বেই সবচেয়ে উজ্জ্বল থাকে,
যেমন সুগন্ধ থাকে, অথচ ফুলটি আর চোখে পড়ে না।

রাত গভীর হলে প্রদীপ নীরবে তার আলো গুটিয়ে নেয়,
শুধু উষ্ণতাটুকু রেখে যায়, যেন কোনো অসমাপ্ত প্রার্থনা।

21 July 2026

যেখানে বাতাস তোমার নাম জানে


যেখানে বাতাস তোমার নাম জানে
আরমান রশিদ

বহু ঋতু পেরিয়ে আজ আবার সেই পুরোনো পথের ধারে,
বটগাছটি এখনো সন্ধ্যার ছায়া গুনে রাখে নীরবে।
নদী তার স্রোতে বহু নাম ভাসিয়ে দিয়েছে দূরে,
তবু কিছু উচ্চারণ তলদেশ ছেড়ে কোথাও যায়নি।

শিউলি ঝরে, কদম ফোটে, হেমন্ত আবার ধান পাকে,
শীতের কুয়াশা ভোরের জানালায় সাদা চিঠি রেখে যায়।
জোনাকি অন্ধকারে ক্ষুদ্র আলো তুলে বলে,
হারিয়ে যাওয়া মানেই আকাশ থেকে মুছে যাওয়া নয়।

আমি আর কোনো প্রতীক্ষার হিসাব রাখি না,
সময়কে তার নিজের নদীর মতো বয়ে যেতে দিই।
যা ছিল, তা ঋতুর ভেতর রয়ে গেছে;
যা নেই, তা বাতাসের মতো পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে আছে।

আজ বুঝি, মানুষ চলে যায়, ঋতু বদলে যায়, নদীও পথ পাল্টায়,
তবু যেখানে বাতাস তোমার নাম জানে, সেখানে কোনো বিদায় শেষ বিদায় নয়।

18 July 2026

প্রিয় ফুল


প্রিয় ফুল
আরমান রশিদ


চোখের ভেতর স্বপ্ন ছিল, ছিল তোমার ঘর,
ভেবেছিলাম পাশাপাশি কাটবে জীবনভর।
সময় এসে নীরব হাতে লিখল অন্য ভাগ্য,
এক নিমেষে ভেঙে দিল হৃদয়ের সব আগ্রহ।

যে পথ ধরে হেঁটেছিলাম দু'জন পাশাপাশি,
আজ সে পথে একাই হাঁটি, নেই তোমার হাসি।
স্মৃতিরা সব ঝরে পড়ে শুকনো পাতার মতো,
নীরব রাতে কান্নাগুলো জাগিয়ে রাখে কত।

জীবন এখন ফুলে ভরা, তবু রঙহীন দিন,
সব পেয়েও হারিয়ে ফেলি বেঁচে থাকার ঋণ।
হাজার সুখের ভিড়ের মাঝেও শূন্য লাগে বারবার,
কারণ তুমি হারিয়ে গেছ, হারিয়েছে আমার সংসার।

গোটা একটা বাগানও বৃথা আমার কাছে,
যখন প্রিয় ফুলটাই নেই তার মাঝে।

16 July 2026

আমৃত্যু মনে থাকবে


আমৃত্যু মনে থাকবে
আরমান রশিদ 


তুমি ছিলে ভোরের আলো, আমি নিশির ছায়া,
তোমায় ছুঁতে গিয়েই শুধু বেড়েছে নিরাশা।
শিশিরভেজা স্বপ্নগুলো রৌদ্রে হলো ক্ষয়,
তবু তোমার স্মৃতি আমার হৃদয় ছেড়ে নয়।

তুমি ছিলে নদীর স্রোত, আমি নীরব তীর,
তোমার ছোঁয়ার আশায় ছিল দিনগুলো অধীর।
সাগর ডেকে নিল তোমায় আপন বুকে টেনে,
আমি রইলাম বালুচরে তোমার নামই গেঁথে।

তুমি ছিলে পূর্ণিমা-চাঁদ, আমি আঁধার রাত,
তোমার আলো হারিয়েই বাড়ল বুকের ক্ষত।
জোনাকিরা শেখায় আমায় অন্ধকারের হাসি,
আমি শুধু তোমার স্মৃতি বুকে নিয়ে ভাসি।

তুমি ছিলে বকুলফুলের সুবাসভরা ডাল,
আমি যেন ঝরাপাতার নিঃস্ব নীরব কাল।
বসন্ত এল তোমার ঘরে রঙিন সুখের বেশে,
আমার ঋতু কাঁদতে শিখল শূন্যতারই শেষে।

তুমি ছিলে প্রদীপশিখা, আমি পোড়া সালতে,
জ্বলতে জ্বলতে শিখে গেলাম অশ্রু লুকিয়ে ফেলতে।
ছাইয়ের নিচে আগুন যেমন নীরব জেগে রয়,
আমার প্রেমও তেমনি আজ, নিভেও শেষ না হয়।

তুমি ছিলে নীল আকাশের উদাস সাদা মেঘ,
আমি ছিলাম পথিক শুধু, ক্লান্ত দিনের রেশ।
বৃষ্টি হয়ে ঝরলে তুমি অন্য কারও দ্বারে,
আমার আকাশ রইল শুধু বিদ্যুৎহারা ভারে।

যদি কোনো গভীর রাতে জেগে ওঠে মন,
স্মৃতির পাতা উল্টে দেখো হারানো সেই ক্ষণ।
দেখবে সেখানে লিখে রাখা একটিমাত্র নাম,
যে ভালোবেসে হারিয়েছিল জীবনেরই দাম।

পাওয়া যদি প্রেমের শেষ, হারানো তার প্রাণ,
অপূর্ণতাই অমর করে ভালোবাসার গান।
আমি মিশে যাব একদিন ধূলিরই অন্তরালে,
তবু তুমি আমৃত্যু থাকবে আমার হৃদয়তলে।

15 July 2026

কুয়াশার চিঠি


কুয়াশার চিঠি
আরমান রশিদ

রাতের শেষ প্রহরে কুয়াশা নামে নীরব অক্ষরে,
জানালার কাচে রেখে যায় অচেনা কিছু সাদা পঙ্‌ক্তি।
আমি পড়তে যাই, অথচ শব্দগুলো ভোরের আলোয় মিশে যায়,
শুধু তোমার নামটি থেকে যায় শিশিরের মতো স্বচ্ছ।

দূরের তালগাছ স্থির, যেন বহুদিন কারও প্রতীক্ষায়,
নদীর বুকেও আজ অকারণ ঢেউয়ের অন্যমনস্কতা।
বাতাসের হাতে উড়ে আসে শুকনো কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি,
মনে হয়, ঋতুও বুঝি তোমার অনুপস্থিতি শিখে ফেলেছে।

একটি সাদা বক একা উড়ে যায় পশ্চিমের আকাশ পেরিয়ে,
তার ডানায় বিকেলের নিঃসঙ্গ আলো কেঁপে ওঠে।
আমি জানি, কিছু যাত্রা ফিরে আসার জন্য নয়,
তবু প্রতিটি পথের শেষে তোমারই ছায়া দাঁড়িয়ে থাকে।

আজও ভোর হলে কুয়াশা আমার দরজায় একটি চিঠি রেখে যায়,
খুলি না কখনো, কারণ জানি, ভেতরে শুধু তোমারই নীরবতা লেখা।

14 July 2026

পূর্ণিমার গন্ধ


পূর্ণিমার গন্ধ
আরমান রশিদ

আজও পূর্ণিমা উঠলে বাতাসে তোমার নামের গন্ধ পাই,
জোছনার সাদা আলো নেমে আসে অচেনা এক অভিসারে।
নদী থমকে শোনে, কে যেন নীরবে তোমাকে ডাকে,
কাশফুল কেঁপে ওঠে অদৃশ্য কোনো স্পর্শের ইশারায়।

শিউলি-ভেজা ভোরে ঘাসের বুকে শিশির হয়ে জাগো,
পাখির প্রথম ডাকে তোমার নীরবতা মিশে যায়।
বটের ছায়ায় বসে থাকা বিকেল হঠাৎ দীর্ঘ হয়,
যেন সময়ও তোমার প্রতীক্ষায় পথ ভুলে দাঁড়িয়ে থাকে।

আমি আকাশে তাকাই না, তবু আকাশ নেমে আসে চোখে,
চাঁদকে দেখি না, দেখি তোমার অনামা আলোর অবয়ব।
বৃষ্টি থেমে গেলে মাটির গন্ধে তুমি ধীরে ধীরে ফুটে ওঠো,
যেন পৃথিবী তোমার স্মৃতি লুকিয়ে রেখেছে গভীরতম স্তরে।

ভালোবাসা বুঝি কোনো মানুষের নাম নয়, এক অনন্ত ঋতু,
যেখানে তুমি না থাকলেও, তোমার আলোয় আজও জেগে থাকে পৃথিবী।

13 July 2026

স্বপ্নের দীপ


স্বপ্নের দীপ
আরমান রশিদ

স্বপ্ন কেন ডাকে আমায় নীল আকাশের পানে,
রঙিন মেঘের ভেলায় ভাসায় অচিন সুখের গানে।
সেখানে নেই দুঃখের ছায়া, নেই বিরহের রাত,
আশার ফুলে ভরে থাকে অনন্ত প্রভাত।

হঠাৎ দেখি ভোরের আলো জানায় নীরব বাণী,
"পথের শেষে ফুলই শুধু ফুটে থাকে না জানি।"
কাঁটার সাথেই পথ চলিলে পাবে জীবনের মান,
অশ্রু মেখে ফুটবে শেষে বিজয়-শুভ্র গান।

ঝড়ের বুকে প্রদীপ যেমন নিভে গিয়েও জ্বলে,
মানুষ তেমনি দাঁড়ায় আবার ব্যথার গভীর তলে।
হারিয়ে গিয়েও খুঁজে নেয় সে নতুন দিনের দিশা,
শুকনো ডালে জেগে ওঠে বসন্তেরই আশা।

নদী যেমন সাগর-পানে ক্লান্তিহীন ধায়,
অন্ধকারে চাঁদের আলো পথের কথা গায়।
তেমনি হৃদয় ভাঙুক যদি শত দুঃখের ঘায়ে,
তবু আশা বেঁচে থাকে নীরব আলোর ছায়ে।

স্বপ্ন আকাশ, বাস্তব যেন মাটির গভীর টান,
দুয়ের মাঝে মানুষ লেখে অনন্ত জীবনের গান।
যে অশ্রুকে শক্তি করে, আঁধার ভেঙে দীপ জ্বালে,
সময় একদিন তারই নামে বিজয়ের মালা গাঁথে।

অনুচ্চারিত তুমি


অনুচ্চারিত তুমি
আরমান রশিদ

তোমাকে বলার ছিল এক সমুদ্র নীরবতার কথা,
তবু ঠোঁট ছুঁয়ে সব শব্দ ফিরে গেছে বাতাসে।
ভোরের প্রথম শিশির যেমন ঘাসে রেখে যায় ব্যথা,
তেমনি তুমি মিশে আছ আমার প্রতিটি নিশ্বাসে।

কাশবনের সাদা ঢেউ জানে তোমার নিঃশব্দ নাম,
শিউলি-ঝরা ভোর জানে কতবার ডেকেছি তোমায়।
নদী আজও সাগর পেলে খুলে দেয় বুকের অবিরাম,
আমি শুধু নীরব হয়ে শিখেছি হারিয়েও ভালোবাসায়।

পূর্ণিমার আলো নামে, জানালায় তোমার মুখের আভা,
কুয়াশা এসে ধীরে ধীরে তোমার অবয়ব এঁকে যায়।
জোনাকির ক্ষুদ্র আলোয় দেখি হারানো দিনের দাবি,
বৃক্ষের শিকড়ের মতো স্মৃতি মাটির গভীরে নেমে যায়।

তুমি দূরে নও, শুধু অন্য এক ঋতুর আকাশে বাস করো,
আর আমি প্রতিটি ভোরে তোমার নামের আলোয় নীরবে জেগে উঠি।

12 July 2026

অপ্রত্যাশিত আগমন


অপ্রত্যাশিত আগমন
আরমান রশিদ

কোন ঋতুর গোপন ডাকে তুমি নেমেছিলে আমার আকাশে,
মেঘভাঙা আলোর মতো, নামহীন কোনো শুভ্র সকালে।
শিশিরে ভেজা ঘাস জানত তোমার পদধ্বনির ভাষা,
আর কাশফুল দুলে উঠেছিল অকারণ উল্লাসে।

আমি তখন শুকনো নদী, পাথর ছোঁয়া নিঃসঙ্গ স্রোত,
বাতাসে উড়ে যাওয়া পাতার মতো অনিশ্চিত দিন।
তুমি এলে, বনভূমির গভীরে জ্বলে ওঠা জোনাকির মতো,
নীরবতাকেও শিখিয়ে দিলে আলো হয়ে বেঁচে থাকতে।

তারপর একদিন হেমন্ত এলো কুয়াশার সাদা চাদর মেলে,
পাখিরা দূর দিগন্তে হারাল, নদী ভুলল তারই গান।
তুমিও চলে গেলে, যেন অস্তরাগের শেষ রঙটি মুছে যায়,
তবু তোমার স্পর্শ লেগে রইল প্রতিটি সন্ধ্যার প্রাণে।

আজও পূর্ণিমা উঠলে বাতাসে তোমার নামের গন্ধ পাই,
অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা বোধহয় ঝরে না, বৃক্ষের শিকড় হয়ে মাটির গভীরে বেঁচে থাকে।

11 July 2026

নীরব প্রস্থান


নীরব প্রস্থান
আরমান রশিদ

হঠাৎ করে কেউ তো ভালোবাসা ছেড়ে যায় না,
নীরব কৌশলে শুধু দূরত্ব বাড়িয়ে যায়।
সময়ের হিসাব বদলে, কথার উষ্ণতা হারায়,
চোখে চোখ রাখলেও আর ভালোবাসা ধরা দেয় না।

তুচ্ছ অজুহাতে জমে ওঠে অকারণ বিরক্তি,
আমার উপস্থিতিও যেন হয়ে ওঠে তার ক্লান্তি।
প্রতিটি অবহেলায় নিঃশব্দে ভাঙে বিশ্বাস,
তবু বুকের ভেতর বাঁচিয়ে রাখি শেষ আশ্বাস।

একদিন ক্লান্ত হয়ে আমিই বলি, "থাক, আর নয়",
সে তখন নীরব হাসিতে জিতে নেয় বিদায়ের ক্ষয়।
বলেই ফেলে, "সম্পর্কটা তুমি ভেঙেছ, আমি নই",
সযত্নে লুকিয়ে রাখে তার সব অভিনয়।

যে হাত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অনেক আগে,
দোষটুকু শুধু আমার কাঁধে রেখেই চলে যায় অনায়াসে।

09 July 2026

Forever With You


Forever With You

By 

Arman Rashid


I do not know if I need happiness,
Or if my heart can ever be complete;
But when you're here, my fears become much less,
And every day with you feels calm and sweet.

I do not dream of riches or of fame,
I only want to hold your hand each day;
The world may change, but I stay just the same,
My love for you will never fade away.

If life is hard and all the skies turn gray,
I'll still be smiling if you're by my side;
No matter what tomorrow brings our way,
With you is where I'll always choose to hide.

I don't know if I want to be happy too,
I only want forever with you.

07 July 2026

যে চোখ ঘুম কেড়ে নিল


যে চোখ ঘুম কেড়ে নিল
আরমান রশিদ


দেখিনি তোমায় আমি, দেখেছি শুধুই চোখ,
সেই দৃষ্টির মায়াতেই হারিয়েছি নিজেকে।
মনে হলো, কত জন্মের অসমাপ্ত পরিচয়,
অথচ নামটুকুই তো জানা হলো না আজও।

সেদিনের সেই চাহনি আজও মোর ঘুম ভাঙায়,
রাত গভীর হলে, সেই মায়া নীরবে জেগে রয়।
ভুলতে চাই শতবার, তবু নিয়তির মতো
ফিরে আসে সেই চোখ হৃদয়ের আয়নায়।

জানি, তোমার মনে আমার কোনো ঠিকানা নেই,
আমার তরে থমকে থাকার কোনো কারণও নেই।
তবু কেন প্রতিটি প্রার্থনার শেষে
তোমারই দুটি চোখ ভেসে ওঠে নিদ্রাহারা পাতায়?

বলতে পারো, এ যদি প্রেম না হয়, তবে কী - 
কেন এক পলকের দৃষ্টিই আজীবনের প্রতীক্ষা লিখে গেল?


04 July 2026

নীরব অভিশাপ


নীরব  অভিশাপ
আরমান  রশিদ


মানুষের চোখের জলকে কখনো তুচ্ছ ভেবো না,
নীরব অশ্রুরও থাকে হাজার না-বলা ভাষা।
যে কান্নার কারণ আজ তুমি, ভুলে যেও না তাই,
সময়ের খাতায় প্রতিটি অশ্রুর হিসাব লেখা ভাই।

কষ্ট দিয়ে জয়ী হলে, সে জয় ক্ষণিকেরই হয়,
বিবেকহীন সেই বিজয়ে থাকে না কোনো পরিচয়।
অন্যের বুকে এঁকে দিও না দীর্ঘশ্বাসের দাগ,
একদিন সেই ব্যথাই হবে তোমার জীবনের ভার।

পৃথিবী সব অন্যায়ের বিচার নাও করতে পারে,
তবু স্রষ্টা আর সময় নীরবে সবই ধরে।
অন্যের হৃদয় ভেঙে গড়ো না সুখের প্রাসাদখানি,
ভাঙা হৃদয়ের আর্তনাদ ফিরে আসে নীরব বাণী।

ভালোবাসা দিলে ভালোবাসাই ফিরে আসে আবার,
সম্মান দিলে সম্মান মেলে, আলোকিত হয় সংসার।
দুঃখ দিয়ে হাসলে যদি, ভেবো না শেষ হয়েছে সব,
নীরব অশ্রুর অভিশাপ একদিন দেবে কঠিন জবাব।

তাই মানুষকে মানুষ ভেবেই ভালোবাসতে শেখো,
কারও চোখে অকারণে অশ্রুর নদী রেখো না।
কারণ নীরব কান্নারও আছে অসীম শক্তির ডাক,
সময় এলে সেই নীরবতাই সত্যের দুয়ার খোলে এক।


01 July 2026

অশ্রুর হিসাব


অশ্রুর হিসাব
আরমান রশিদ


তুচ্ছ ভেবে চলে গেলে, ফিরেও চাওনি আর,
নীরব থেকে সয়েছি আমি বুকের সব ভার।
অভিমানকে সঙ্গী করে কেটেছে কত কাল,
তবু মুখে বুনিনি কোনো প্রতিশোধের জ্বাল।

আমার চোখের একফোঁটা জল ঝরে না অকারণে,
প্রতি বিন্দু লিখে রাখে নীরব এক স্মরণে।
যে-ই হয় সে অশ্রুর নীরবতম কারণ,
সময় তার ফিরিয়ে নেয় অমূল্য কিছু ক্ষণ।

এ যে কোনো অভিশাপ নয়, কর্মেরই বিধান,
যেমন বপন তেমনি ফলে এ জীবনের বিধান।
অশ্রুর দাম বোঝে শুধু নীরব মহাকাল,
ন্যায়ের পাল্লা শূন্য থাকে নাকো চিরকাল।

27 June 2026

না দেখেই ভালোবেসেছি


না দেখেই ভালোবেসেছি
আরমান রশিদ


তোমায় দেখিনি কোনোদিন, তবু পরিচিত খুব,
কণ্ঠের মায়ায় এঁকেছি তোমার মুখের রূপ।
কয়েকটি দিনের কথোপকথন, কিছু নিঃশব্দ ক্ষণ,
সেখানেই গড়ে উঠেছে আমার ভালোবাসার ভুবন।

এক পলক চোখে না রেখেও মুগ্ধ আমি আজ,
অদেখা সেই মানুষটিই আমার সকল সুখের সাঁজ।
তোমার প্রতিটি শব্দ যেন বসন্তের সুবাস,
অচেনা হয়েও তুমি হয়ে গেছো মোর নিঃশ্বাস।

জানি না তুমি কী রঙে হাঁসো, কেমন তোমার চাহনি,
তবু তোমাকেই ভেবে লিখি প্রতিটি রাতের কাহিনি।
এমন মায়া কি সহজে আসে? আসে কি বারবার?
নাকি বিধাতাই লিখে রেখেছেন তোমার আমার নাম?

যদি কোনোদিন দেখা হয়, রেখো নয়নে ভালোবাসা,
সেই দৃষ্টিতেই খুঁজে নেবো জীবনের সকল ভাষা।
আর যদি না-ও হয় মোদের মিলন এ জীবনের ভিড়ে,
অদেখা প্রেম হয়েও থেকে যেও মোর প্রতিটি কবিতার নীড়ে।

23 June 2026

ভালোবাসা সুন্দর, তবে আমার জন্য না


ভালোবাসা সুন্দর, তবে আমার জন্য না
আরমান রশিদ 


না পাইলাম তোমারে, না পাইলাম সংসার,
ভেঙে গেল নিমিষেতে স্বপ্ন হাজারবার।
ছোট ছোট আশা, ভরসা আর সাধ,
মুহূর্তেই হারিয়ে গেল, রইল শুধু বিষাদ।

একসাথে থাকার ছিল কত যে অঙ্গীকার,
সময়ের স্রোতে সেসব হলো যে অসার।
তুমি বেছে নিলে তোমার আপন পরিবার,
আমি বুকে জড়িয়ে নিলাম নিঃসঙ্গতার ভার।

আজও বলি, ভালোবাসা সত্যিই অসার,
যার ছোঁয়ায় ফুটে ওঠে জীবনের রঙধার।
তবু নিয়তির লিখন করেছে যে অস্বীকার,
ভালোবাসা সুন্দর, তবে আমার জন্য না আর।

13 June 2026

প্রেমিকের পরাজয়


প্রেমিকের পরাজয়
আরমান রশিদ

প্রণয়ের অনলে দগ্ধ হৃদয় রাখে যারে ধ্যান,
তার সম্মুখে বিলীন হয়ে যায় সহস্র অভিমান।
প্রিয়ার তরে বিসর্জন দেয় সুখ, স্বপ্ন, সম্মান,
তুচ্ছ জ্ঞানে অতিক্রম করে বিপদসংকুল স্থান।

মহব্বতের উন্মাদনায় করে জগত অস্বীকার,
নিভৃতে বয়ে বেড়ায় সে আকাঙ্ক্ষার ভার।
তবু সেই প্রিয়া প্রতিদানে করে প্রবঞ্চনার দান,
সরল প্রেমিক রয়ে যায় শুধু বেদনারই অধিবাসী প্রাণ।

10 June 2026

জীবনের ভুল


জীবনের ভুল
আরমান রশিদ


আম বাগানে আম ধরে, ফুল বাগানে ফুল,
তোমায় আমি ভালোবেসে, করেছি জীবনের ভুল।
পুকুর ভরা মাছ যে থাকে, আকাশ ভরা তারা,
তোমার পিছে ঘুরতে গিয়ে হয়েছি আমি পথহারা।

নদীর জলে ঢেউ যে ওঠে, বাতাস বয় কূল,
তোমার নামে স্বপ্ন দেখে হয়েছি আমি আকুল।
শীতের পরে গ্রীষ্ম আসে, দিনের পরে রাত,
তোমার প্রেমে পড়ে গিয়ে হারিয়েছি প্রভাত।

শিউলি ফোটে ভোরের বেলা, সন্ধ্যা নামে কূল,
তোমার মিথ্যে স্বপ্ন বুকে বুনেছিলাম ফুল।
শীতের পরে বসন্ত আসে, রাঙায় ধরণীকূল,
তোমায় পেয়ে হারিয়েছি যে, সেটাই বড় ভুল।

আম বাগানে আম ধরে, ফুল বাগানে ফুল।
তোমায় আমি ভালোবেসে, করেছি জীবনের ভুল।

I Still Miss You


I Still Miss You
By
Arman Rashid 


I sit alone and think of you,
And all the things we used to do.
The days were bright, the sky was blue,
Now everything feels sad and new.

I see your face in every dream,
Nothing is quite the way it seemed.
I hear your voice inside my mind,
But when I look, you're hard to find.

The stars come out, the night is long,
I try to smile and stay strong.
But deep inside, I feel the pain,
And wish you'd come back once again.

The rain falls softly from above,
It reminds me of our love.
Though you're gone and far away,
I think of you every day.

Maybe time will heal my heart,
And help me live while we're apart.
But until then, this will stay true,
A part of me still misses you.


09 June 2026

08 June 2026

অভিশপ্ত হৃদয়


অভিশপ্ত হৃদয় 
আরমান রশিদ
 
হতাশা মস্তিষ্ক যখন আক্ষেপে পূর্ণ, 
অভিশপ্ত হৃদয় তখন প্রেমে চূর্ণ। 
ভেঙে গেছে স্বপ্ন, হয়েছে ক্ষীর্ণ, 
নিভে গেছে আলো, পথ আজ শূন্য।
 
স্মৃতিরা আসে বারবার ফিরে, 
নিঃশব্দ রাতে বেদনা ঘিরে। 
যে ভালোবাসা ছিল অমূল্য ধন, 
সেটাই আজ কেবলই হারানোর কারণ।
 
অশ্রুর ভাষা বোঝে নাহি কেউ, 
ব্যথার সাগরে ভাসে নীরবতার ঢেউ। 
অপেক্ষার প্রহর হয়েছে দীর্ঘ, 
বুকের ভেতরে জমেছে বিষাদ সুদীর্ঘ।
সময়ের সাথে বদলেছে সুখ-দুঃখের বর্ণ,
তবু হৃদয় রয়ে গেছে বিরহে জীর্ণ।
ভাগ্যের খাতায় লেখা অশ্রুর বর্ণ,
অভিশপ্ত হৃদয় আজও প্রেমে চূর্ণ।
 

আমি হারাতে চাই তোমার মাঝে


আমি হারাতে চাই তোমার মাঝে
আরমান রশিদ


তোমার নামে জেগে ওঠে আমার নীরব অনুভূতি,
তোমার ছোঁয়ায় ভরে ওঠে হারানো সব স্মৃতি।
চাঁদের আলো জানালায় এসে নরম কথা কয়,
তুমি ছাড়া এই হৃদয়; আজও নিজেকে হারায়।

তোমার হাসি ভেঙে দেয় শত ক্লান্ত অন্ধকার,
তোমার চোখে খুঁজে পাই বেঁচে থাকার আধার।
দূরত্বের দেয়াল ভেঙে তুমি থাকো আশেপাশে,
তোমারই নাম লেখা থাকে আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে।

রাতের আকাশ জুড়ে যখন নক্ষত্রেরা জ্বলে,
তোমার কথা নরম হাওয়ায়; হৃদয়ের ভেতর চলে।
অজানা সব স্বপ্ন এসে দাঁড়ায় আমার দ্বারে,
তোমার জন্যই বাঁচতে চাই, এই পৃথিবীর তরে।

আমি হারাতে চাই নিজেকে তোমার গভীর মাঝে,
যেখানে শুধু তুমি আছো, নেই কোনো শব্দ সাঝে।
তোমার চোখে খুঁজে পাই জীবনের নতুন মানে,
তোমারই ভেতর হারিয়ে যাই নীরব প্রেমের টানে।

শেষ কথাটা হৃদয়ের গভীরে; রেখে দিই আজ,
তুমি ছাড়া এই জীবন এক অসমাপ্ত কাজ।
তুমি আমার অস্তিত্ব, তুমি আমারই চাবি,
আমি হারাতে চাই তোমার মাঝে, এটাই মোর দাবি।

06 June 2026

রোদের দাগে স্বপ্ন


রোদের দাগে স্বপ্ন
আরমান রশিদ 

রোদের দাগ গায়ে লাগে,
স্বপ্নগুলো মনে জাগে।
ধুলোমাখা পথে হাঁটি,
তবু চোখে নীল আকাশের ফাঁকি।

দুপুরের আগুন রোদে,
তোমার ছায়া পাশে রবে।
ঘামের ভেজা এই শরীর,
তবু মনে জাগে অদ্ভুত নীর।

দিগন্ত জুড়ে রঙের খেলা,
মনে বাজে গোপন বেলা।
পাখির ডাকে মন থেমে যাই,
তোমার নামই নিজেকে খুঁজে পাই।

রোদের তাপে পোঁড়ে আমার মন,
তবু জাগে অকারণে হৃদয়ের স্পন্দন।
মেঘের আড়াল ভেঙে দেয় রোদের আলো,
তোমার হাসি আমার লাগে ভালো।

দিনশেষে ক্লান্ত পথিক,
স্বপ্ন তখন হয় অধিক।
রোদের দাগ যদিও বা মুছে যায়,
তোমার স্মৃতি তবুও এই হৃদয়ে রয়ে যায়।

05 June 2026

01 June 2026

জীবনের মানে


জীবনের মানে
আরমান রশিদ



জীবনের মানে খুঁজি আমি নীল আকাশের তলে,
অগণিত প্রশ্ন জাগে নীরব মনপ্রাণে।
ভোরের আলো ডেকে বলে, চলো নতুন ছলে,
উত্তরেরা লুকিয়ে থাকে সময়েরই টানে।

নদীর জলে দেখি শুধু চলার অঙ্গীকার,
স্রোত জানে না কোথায় গিয়ে মিলবে তার ঠিকানা।
তবু সে তো থামে না আর, করে না প্রতিকার,
চলতেই হবে, এটাই যেন জীবনের বয়ানা।

শিশুর মুখে ফুটে ওঠে নিষ্পাপ হাসির রঙ,
দুঃখ কাকে বলে সে তো এখনো কিছু জানে না।
সেই হাসিতে জেগে ওঠে পৃথিবীরই ঢঙ,
আনন্দ কত সহজ হতে পারে, তা ভোলে না।

মায়ের চোখে দেখি আমি আশ্রয়েরই ছায়া,
ক্লান্ত দিনের শেষে যা দেয় হৃদয়ভরা শান্তি।
তার মমতার কাছে হারায় পৃথিবীর সব মায়া,
স্নেহের ভেতর লুকিয়ে থাকে জীবনেরই কান্তি।

মানুষ কত স্বপ্ন বোনে অচেনা আগামীতে,
জেনেও কত স্বপ্ন শেষে ঝরে যায় নীরবে।
তবু আবার পথ চলা শুরু হয় নবনীতেতে,
আশা এসে হাত রাখে তার কাঁধের উপর ধীরে।

ঝড়ের পরে গাছটি যেমন দাঁড়িয়ে থাকে চুপ,
ভাঙা ডালে লেগে থাকে দুর্যোগেরই চিহ্ন।
তেমনি মানুষ বুকে নিয়ে বেদনার অরূপ,
তবু খোঁজে আলোর পথ, করে না কোনো গুঞ্জন।

কিছু মানুষ এসে শুধু স্মৃতির প্রদীপ জ্বালে,
কিছু মানুষ হারিয়ে যায় সময়েরই স্রোতে।
তবু তাদের পদচিহ্ন হৃদয় জুড়ে চলে,
নীরব কোনো গান হয়ে বাজে গোপন নোটে।

হারিয়ে ফেলার মধ্যেও যে শিক্ষার আলো রয়,
কষ্ট মানুষকে শেখায় গভীর হওয়ার মানে।
সব পাওয়া নয়, কিছু শূন্যতাও জীবনের পরিচয়,
অভিজ্ঞতার অক্ষর লেখা থাকে প্রাণের টানে।

জীবনের মানে তাই তো কোনো চূড়ান্ত উত্তর নয়,
এ এক অনন্ত যাত্রা, অজানার আহ্বান।
প্রতিটি দিন নতুন করে বাঁচারই পরিচয়,
ভালোবাসায় পূর্ণ হওয়াই মানুষের সম্মান।

শেষ বিকেলের সূর্য যখন ডুবে যাবে ধীরে,
ফিরে দেখব পথের ধুলো, হাসি আর কান্না।
যদি কিছু আলো রেখে যেতে পারি নীরে,
তবেই জীবন পূর্ণ হবে, এ-ই আমার ভাবনা।

30 May 2026

Mother: The First Teacher of Love and Morality


Mother: The First Teacher of Love and Morality
By
Arman Rashid 

Who teaches us how to love before we even know the meaning of love? Every human being enters the world helpless and dependent. A newborn child does not understand language, rules, or society. The first face the child sees is usually the mother’s face. From that moment, learning begins. A mother feeds the child, protects the child, and stays awake at night for the child’s comfort. The child slowly learns feelings through her touch and voice. Before school education starts, home education has already begun. The first lessons are not about math or grammar. They are about care, kindness, and trust. A mother becomes the first guide in a child’s life. She creates the emotional environment where the child grows. That early environment shapes personality. Many great thinkers say that childhood forms the base of character. And in childhood, the strongest influence is the mother. That is why she is called the first teacher of love and morality.

Love is the first lesson a child receives from the mother. She loves her child without expecting anything in return. This teaches the child that love is not selfish. When a baby cries, the mother responds immediately. Through this response, the child learns that feelings matter. Slowly, the child begins to feel safe in her presence. This safety builds emotional strength. A loved child grows confident. The mother also teaches affection through small actions like hugging, smiling, and comforting. These simple acts help the child understand warmth and care. When the child falls, the mother lifts them up. From this, the child learns support. The idea of compassion begins here. Later in life, the child shows love to friends and others because they experienced it first at home. Without this early love, emotional development becomes weak. So the mother lays the foundation of human connection. Love learned from a mother stays pure and deep.

Morality means knowing right from wrong. A mother begins this teaching in simple ways. She tells the child not to lie. She teaches the child to say sorry after making mistakes. She encourages sharing with others. When the child behaves badly, she corrects gently but firmly. Through these corrections, the child understands responsibility. A mother also teaches respect. She shows how to speak politely and behave kindly. When she helps neighbors or family members, the child observes this behavior. Children learn more by watching than by listening. If the mother is honest, the child learns honesty. If she is patient, the child learns patience. Moral lessons become part of daily life. These lessons are repeated again and again until they become habits. Habits later become character. Society depends on strong moral character. And that character often begins in a mother’s care.

A mother does not only teach rules. She also teaches emotions. She helps the child understand anger, sadness, and happiness. When a child is angry, she explains how to control it. When the child is sad, she offers comfort. This teaches emotional balance. Emotional control is important for social life. A mother also teaches how to treat others kindly. She encourages friendship and cooperation. Through family interactions, the child learns sharing and caring. A mother explains why hurting others is wrong. She guides the child in solving small conflicts. These small lessons prepare the child for society. Emotional intelligence begins at home. A child who understands feelings becomes more understanding toward others. This creates harmony in society. In this way, the mother prepares the child for the outside world. Her early guidance helps build a peaceful personality.

In my opinion, the mother truly deserves the title of the first teacher of love and morality. Formal education begins at school, but moral education begins at home. Teachers may teach subjects, but mothers teach values. Without love, moral rules feel empty. Without morality, love becomes weak. A mother connects both together. She teaches through actions, not long speeches. Her lessons are simple but powerful. Modern society often gives more importance to academic success. However, character is more important than marks. A successful person without morality can harm society. A mother helps prevent this by shaping character early. Even in difficult situations, her influence remains strong. For these reasons, I strongly believe that the role of a mother is unmatched in building love and morality.

Conclude that, a mother is the first school of every child. She teaches love before language. She teaches morality before law. Through care, correction, and example, she shapes character. The lessons she gives are simple but lifelong. Her influence continues even in adulthood. A good society depends on good individuals. And good individuals are often shaped by strong mothers. Schools and books are important, but they come later. The heart is formed at home. The foundation of love and morality begins with a mother. That is why she is rightly called the first teacher of love and morality.

29 May 2026

মায়াবতী


মায়াবতী
আরমান রশিদ


তুমি ছিলে আমার মায়াবতী,
তোমার ভালোবাসা ছিলো শুধু আমার প্রতি।
তোমাকে ঘিরে ছিলো হাজারো আশা,
তুমিই ছিলে আমার একমাত্র ভালোবাসা।

তোমার চোখে দেখেছিলাম ভোরের আলো,
ভাবতাম তোমাকেই বাসবো চিরকাল ভালো।
তোমার হাসিতে হারিয়ে যেতো সব ব্যথা,
তোমাকেই ভেবে লিখতাম মনের কথা।

তুমি পাশে থাকলে মন হতো শান্ত,
তোমার ছোঁয়ায় বদলে যেত জীবন ক্লান্ত।
তোমার কণ্ঠ ছিলো মিষ্টি সুরের গান,
শুনলেই জেগে উঠতো অবুঝ এই প্রাণ।

তোমার সাথে কাটতো স্বপ্নময় ক্ষণ,
তোমাকে নিয়েই ছিলো আমার জীবন।
তোমার জন্য সাজিয়েছিলাম সুখের ঘর,
ভাবিনি কখনও তুমি হবে আমার পর।

চাঁদের আলোয় দেখতাম তোমার মুখ,
তোমার নামেই লুকিয়ে ছিলো সুখ।
তোমার হাত ধরে হাঁটার ছিলো ইচ্ছে,
আজও সেই স্মৃতিগুলো হৃদয়ে মিশে।

তুমি বলেছিলে থাকবে সারাজীবন,
তোমাকেই ভেবে গড়েছিলাম ভবিষ্যৎ স্বপন।
কিন্তু হঠাৎ সময় বদলে দিলো সব,
ভঙ্গুর হয়ে গেলো ভালোবাসার ঘব।

এখন তুমি অনেক দূরের মানুষ,
তবুও তোমাতেই আটকে আছে মোর নিঃশ্বাস।
তোমার স্মৃতি আজও কাঁদায় আমায়,
নিঃশব্দ রাতগুলো শুধু তোমাকেই পেতে চায়।

তোমার অভিমানে ভেঙেছিল মন,
তবুও ভালোবেসেছি তোমায় সারাক্ষণ।
তুমি ছাড়া এই পৃথিবী লাগে আমার শূন্য,
সব হাসির মাঝেও আমি আজ অবহেলায় পূর্ণ্য।

তোমার দেওয়া চিঠিগুলো আজও আছে,
পুরোনো অনুভূতি হৃদয়জুড়ে বাঁচে।
তোমার ছবিতে জমে আছে ধুলো,
তবুও তোমাকে ভুলতে পারিনি একটুও।

তুমি ছিলে আমার কবিতার ভাষা,
তোমাকে নিয়েই ছিলো সকল আশা।
তোমার জন্য জেগেছিলো এই মন,
তোমাকেই ভেবে কাটতো প্রতিক্ষণ।

বৃষ্টিভেজা রাতে তোমার কথা মনে পড়ে,
নীরব অশ্রুগুলো বুকের ভিতর ঝরে।
হাজার মানুষের ভিড়েও লাগে আমার একা,
কারণ তোমাকেই খুঁজে ফেরে এই দেখা।

তুমি ছিলে হৃদয়ের গভীর অনুভূতি,
তোমাকে ছাড়া সবই যেন অসম্পূর্ণ স্মৃতি।
আজও তোমার নাম শুনলে থেমে যাই,
পুরোনো ভালোবাসাকে আবার খুঁজে পাই।

ভালোবাসা ছিলো সত্যি, মিথ্যে ছিলো না,
তোমাকে ভুলে যাওয়ার শক্তি আমার হলো না।
তুমি হয়তো ভুলে গেছো অতীতের দিন,
আমি আজও আগলে রাখি সেই রঙিন ঋণ।

তোমার জন্য লিখি আজও কবিতা,
তোমাকেই ঘিরে জেগে ওঠে অনুভূতিটা।
হয়তো আর কখনো হবে না দেখা,
তবুও তুমার নাম আমার হৃদয়ে লেখা।

যদি কখনো ফিরে আসো পুরোনো পথে,
দেখবে আমি দাঁড়িয়ে আছি আগের মতোই রথে।
কারণ তুমি ছিলে আমার মায়াবতী,
আজও রয়ে গেছে ভালোবাসা তোমার প্রতি।

28 May 2026

সত্যের জন্য যুদ্ধ


 

সত্যের জন্য যুদ্ধ
আরমান রশিদ 


এই শহরে সত্য বলাটাই এখন ভয়,
মিথ্যার হাতেই দেখি ক্ষমতার জয়।
মানুষের চোখে শুধু ক্লান্তির ছাপ,
বেঁচে থাকাটাও যেন আজ বড় অভিশাপ।

রাস্তার মোড়ে মোড়ে জমে থাকে ক্ষোভ,
অন্যায়ের সামনে নীরব পুরো লোক।
যে দেশে ন্যায়ের কথা বইজুড়ে রয়,
সেই দেশে অন্যায়ই প্রতিদিন জয়।

কেউ চাকরির আশায় হারায় যৌবন,
কেউ ক্ষমতার জোরে গড়ে অট্টালিকাগণ।
কেউ না খেয়ে রাতে ফুটপাতে ঘুমায়,
কেউ হাজার টাকার খাবার ফেলে যায়।

এই কি সেই দেশ রক্তে কেনা ভাই?
স্বাধীনতার স্বপ্ন কি এভাবেই হারায়?
মানুষ আজ নিজের দেশেই অসহায়,
ভাঙা স্বপ্ন বুকের ভেতর কাঁদতে চায়।

যোগ্যতার চেয়ে পরিচয়ের দাম,
সততার চেয়ে তোষামোদির নাম।
শিক্ষিত যুবক আজ হতাশ হয়ে রয়,
স্বপ্নগুলো কাগজের নিচে নীরবে ক্ষয়।

হাসপাতালে জীবন বিক্রি হয় টাকায়,
আইনের চোখ আজ ক্ষমতার দিক চায়।
গরিবের কান্না বাতাসে মিলিয়ে যায়,
ধনীদের অন্যায়ও সম্মান পেয়ে যায়।

আমি বিদ্রোহী, চুপ থাকতে জানি না,
অন্যায়ের সামনে মাথা নত করি না।
নীরবতা জাতিকে ধ্বংস করে দেয়,
ভয়ের দেয়াল মানুষকে বন্দি করে দেয়।

আমি লিখি সেই শ্রমিকের ক্লান্ত ঘাম,
যার জীবনে নেই কোনো ন্যায্য দাম।
আমি লিখি সেই মায়ের নীরব কান্না,
ছেলের অপেক্ষায় যার রাত্রি কাটে না।

দেশটা শুধু ক্ষমতাবানদের জন্য নয়,
রিকশাওয়ালা ভাইদের এই মাটিতেই পরিচয়।
কৃষকের ঘামে যে ফসল জন্ম নেয়,
সেই মানুষগুলোও একটু সম্মান পেতে চায়।

তাই আজও হাতে তুলে নিয়েছি প্রতিবাদের কলম,
কারণ নীরবে সহ্য করা সবচেয়ে বড় ভ্রম।
একদিন অন্ধকার ভেঙে আলো আসবেই,
বাংলাদেশ আবারও মানুষেরই হবেই।

20 May 2026

রোদের দাগে স্বপ্ন


রোদের দাগে স্বপ্ন
আরমান রশিদ 


রোদের দাগ গায়ে লাগে,
স্বপ্নগুলো মনে জাগে।
ধুলোমাখা পথে হাঁটি,
তবু চোখে নীল আকাশের ফাঁকি।

দুপুরের আগুন রোদে,
তোমার ছায়া পাশে রবে।
ঘামের ভেজা এই শরীর,
তবু মনে জাগে অদ্ভুত নীর।

দিগন্ত জুড়ে রঙের খেলা,
মনে বাজে গোপন বেলা।
পাখির ডাকে মন থেমে যাই,
তোমার নামই নিজেকে খুঁজে পাই।

রোদের তাপে পোঁড়ে আমার মন,
তবু জাগে অকারণে হৃদয়ের স্পন্দন।
মেঘের আড়াল ভেঙে দেয় রোদের আলো,
তোমার হাসি আমার লাগে ভালো।

দিনশেষে ক্লান্ত পথিক,
স্বপ্ন তখন হয় অধিক।
রোদের দাগ যদিও বা মুছে যায়,
তোমার স্মৃতি তবুও এই হৃদয়ে রয়ে যায়।

18 May 2026

She Was an Enchantress


She Was an Enchantress
— Mohammad Rafi


Who are you?
Are you the one?
She…
The one I came searching for yesterday.

Even the flower in my garden weeps,
It is not as beautiful as you.
Tell me, who are you really?
Why does my heart grow so tender toward you?

Are you that very one
Whom I have been seeking?
Did you never search for me?
Or perhaps you never understood me then.

Are you beautiful only for the color of your skin?
Or is it your soul that makes you an enchantress?
Yes… you are that one—
The one I am still searching for today.

Did you never search for me?
Perhaps you simply failed to understand me then.

Are you admired for your outer beauty?
Or cherished for the grace within?
You are that very one—
The one I have been searching for, even now.


09 May 2026

অদেখা ভালোবাসা


অদেখা ভালোবাসা
আরমান রশিদ 

আমি তোমার বন্ধু, তবু মনতো সেটা মানে না,
তোমার নাম শুনলেই ভেতরে হালকা আলো জ্বলে ওঠে।
তোমাকে সামনে থেকে ঠিক করে দেখিনি কখনো,
তবু তুমি আমার ভাবনায়; খুব চেনা একজন হয়ে গেছো।

কোনো কথা হয়নি আমাদের মাঝে তবু মনে হয়; 
অনেকদিনের নীরব সম্পর্ক আমাদের।
তুমি জানো না, তবু আমার প্রতিদিনের ভেতরে তুমি আছো —
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তুমি একটু একটু করে জায়গা নিচ্ছো।

আমি তোমাকে চাই কি না, সেটা বড় কথা নয় আমি শুধু চাই, 
তুমি আমার অনুভূতিতে সত্য হয়ে থাকো।
দূর থেকেই ভালোবেসে ফেলা এই গল্পটা —
কোনো শব্দে শুরু হয়নি, তবু ভেতরে শেষও হচ্ছে নাকো।