10 September 2026
04 September 2026
শেষ পৃষ্ঠার আগে
শৈশব ছিল টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ,
কাগজের নৌকায় ভেসে যেত ছোট্ট স্বপ্ন।
বয়স বাড়ল, বদলে গেল ঘরের ক্যালেন্ডার,
কিছু মানুষ রয়ে গেল শুধু পুরোনো ছবির মতো।
আমার টেবিলে আজও অর্ধেক লেখা পৃষ্ঠা,
কালির নিচে ঘুমিয়ে থাকে কিছু অনুচ্চারিত কথা;
জীবন যেন প্রতিদিন নতুন করে শেখায়,
শেষ বলে কিছু নেই, আছে কেবল বদলে যাওয়া।
কিছু ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না কোনোদিন,
তবু তাদের ছায়া থেকে যায় হৃদয়ের ভাঁজে;
কিছু বিদায় দরজা বন্ধ করে না,
শুধু ঘরের একটি চেয়ার চিরদিন খালি রাখে।
আমি ব্যর্থতাগুলো ফেলে দিইনি পথে,
পুরোনো চিঠির মতো বুকের কাছে রেখেছি;
কারণ ভাঙা স্বপ্নের কাঁচের টুকরোতেই
কখনো কখনো নিজের মুখ সবচেয়ে স্পষ্ট দেখেছি।
আগামীকাল আমার কাছে অচেনা এক দরজা,
তবু তার চাবি আজই গড়ছি নিজের হাতে;
হয়তো ওপারে আলো, হয়তো আরও দীর্ঘ পথ,
তবু থামব না, কারণ পথেই আমি নিজেকে পাই।
আর যদি একদিন আমার সব শব্দ থেমে যায়,
আমার নীরবতাই বলবে, আমি একদিন সত্যিই বেঁচেছিলাম।
24 August 2026
তুমিই আমার শেষ
তুমি আমার প্রেমজীবনের একমাত্র শেষ ভালোবাসা,
তোমার পরে আর কাউকে দেওয়ার নেই হৃদয়ে কোনো জায়গা।
তুমি একবার ছুটে গেলে, শূন্য হব আমি সারাজীবন,
নতুন কোনো মানুষকে আর ডাকবে না আমার এই মন।
তুমিই আমার শেষ ভরসা, শেষ স্বপ্ন, শেষ আশ্রয়,
তোমার অবহেলায় প্রতিদিন আমি নিঃশেষ হই ক্ষয়।
যদি সামান্য ভালোবাসাও থাকে আমার জন্য তোমার বুকে,
তবে সেটুকু শতভাগ করে নিও, আমাকে রেখো তোমার সুখে।
নাহলে একদিন হারাবে আমায়, ভেঙে যাব নীরবতায়,
হয়তো তোমার কিছুই হবে না, আমি হারাবো নিজেকেই হায়।
আমার জীবনটা আজ আমি সমর্পণ করলাম তোমার হাতে,
তোমার জায়গায় অন্য কাউকে বসাব না কোনোদিন, কোনো রাতে।
আমার শুধু তোমাকেই লাগবে, দ্বিতীয় কোনো অপশন নয়,
তুমি আমার শেষ ভালোবাসা, তোমার পর শুধু নিঃশেষ ক্ষয়।
23 August 2026
মায়াপত্র
উপ নাম: কবিতা সমগ্র
লেখক: আরমান রশিদ
ISBN: 9798235104525
বৃষ্টির অনুবাদ
পাতার ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকে অচেনা উচ্চারণ।
কদমফুল নীরবে ভিজে ওঠে, যেন বহুদিনের প্রতীক্ষা
আজ জল হয়ে ফিরে এসেছে পৃথিবীর দুয়ারে।
মাটির গন্ধে কে যেন পুরোনো দিনের প্রদীপ জ্বালে,
দূরের বাঁশবনে ভিজে ওঠে অচেনা বিকেলের ছায়া।
ডাহুক ডেকে ওঠে, বিলের জল কেঁপে ওঠে ধীরে,
সময় যেন ভিজে কাপড়ের মতো দড়িতে ঝুলে থাকে।
আমি হাত বাড়াই না, তবু বৃষ্টি এসে ছুঁয়ে যায়,
যেন তোমার অপ্রকাশিত কথারা জল হয়ে নেমেছে।
একটি শুকনো পাতা স্রোতে ভেসে দূরে মিলিয়ে গেলে
মনে হয়, বিদায়ও কখনো কখনো ফুলের মতো নরম।
বৃষ্টি থামলে দেখি, পৃথিবী আগের মতোই আছে,
শুধু আমার ভেতরের ঋতুটি আর আগের জায়গায় নেই।
21 August 2026
যে নক্ষত্র ঝরে না
রাত গভীর হলে আকাশ তার প্রাচীন পাণ্ডুলিপি খুলে দেয়,
নক্ষত্রেরা নীরবে পড়ে শোনায় আলোয়ের বিস্মৃত ইতিহাস।
আমি কোনো নাম খুঁজি না সেই অসীম নীলের ভেতর,
তবু একটি দীপ্তি বারবার আমার দিকে ফিরে তাকায়।
দূরের নদী কালো জল বুকে নিয়ে আকাশকে বহন করে,
স্রোতের ভাঁজে ভাঁজে জমে থাকে অদেখা শতাব্দীর নিঃশ্বাস।
বটের শিকড় অন্ধকার ছুঁয়ে আরও গভীরে নামে,
যেন মাটিও তার নিজস্ব আকাশ খুঁজে বেড়ায়।
হঠাৎ একটি উল্কা ছুটে যায়, সবাই বলে, একটি তারা ঝরল;
আমি জানি, সত্যিকারের নক্ষত্র এভাবে নিভে যায় না।
যারা একদিন আলো হতে শিখেছে, তারা অদৃশ্য হলেও
অন্য কারও পথের ভেতর নীরবে জ্বলে থাকে।
আজ বুঝি, হারিয়ে যাওয়া মানেই শেষ হয়ে যাওয়া নয়,
কিছু নক্ষত্র পৃথিবীতে নামে না, মানুষের আত্মায় আশ্রয় নেয়।
18 August 2026
কদমফুলের ঋতু
বর্ষার প্রথম মেঘটি যখন মাঠের ওপর নত হয়ে এল,
কদমগাছ নিঃশব্দে তার গোল সাদা প্রদীপ জ্বালাল।
ভেজা বাতাস পাপড়িগুলো ছুঁয়ে দূরে কোথায় হারাল,
নদী শুধু সেই সুবাস বুকে নিয়ে ধীরে বয়ে চলল।
মাটির গন্ধে জেগে উঠল বহুদিন ঘুমিয়ে থাকা পথ,
ডাহুকের ডাক ভেসে এল বিলের ধূসর জল পেরিয়ে।
আমি বুঝলাম, প্রত্যাবর্তন সবসময় মানুষের হয় না,
কখনো একটি ঋতুই ফিরে এসে অনুপস্থিতির খবর দেয়।
কদমফুল ঝরে পড়ল, কিন্তু সুবাস ঝরল না,
বৃষ্টি থেমে গেল, কিন্তু ভেজা আলো রয়ে গেল পাতায়।
কিছু স্পর্শ পৃথিবী থেকে মুছে যায় সহজেই,
কিছু স্পর্শ বৃক্ষের বলয়ের মতো সময়ের ভেতর বাস করে।
আজও বর্ষা এলে কদমগাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকি,
কারণ কিছু অপেক্ষা শেষ হয় না, তারা ঋতু হয়ে ফিরে আসে।
17 August 2026
নব্বই দশকের গ্রামীণ সমাজ
নব্বই দশকের গ্রামীণ সমাজ বই
লেখক: আরমান রশিদ
ISBN:9798233363177
Download link: নব্বই দশকের গ্রামীণ সমাজ নাটক
16 August 2026
অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা
তুমি এসেছিলে, যেন শুকনো নদীতে প্রথম জোয়ারের জল,
কোনো ঘোষণা ছিল না, ছিল না আকাশের পূর্বাভাস।
শুধু বিকেলের আলো হঠাৎ অন্য রঙে ঝুঁকে পড়েছিল,
আর শালিকেরা অকারণ দীর্ঘক্ষণ বসে ছিল তারের পাশে।
তখনও জানতাম না, ঋতুরও গোপন সিদ্ধান্ত থাকে,
কিছু ফুল ফোটে শুধু একটি নাম মনে রাখার জন্য।
তোমার উপস্থিতি ছিল বৃষ্টির আগের মাটির গন্ধের মতো,
দেখা যায় না, অথচ চারদিকে তারই বিস্তার।
একদিন দেখি, পথ একই আছে, শুধু পদধ্বনি নেই,
নদী একই আছে, শুধু স্রোত আর আগের ভাষায় কথা বলে না।
সন্ধ্যার ধোঁয়া উঠতে থাকে কুঁড়েঘরের চুলোর ভেতর থেকে,
আর আমি বুঝি, আগুন নিভলেও উষ্ণতা কিছুক্ষণ থেকে যায়।
তুমি ছিলে আমার জীবনের কোনো ঘটনা নও,
তুমি ছিলে একটি ঋতু, যে চলে গিয়েও গাছের পাতায় রঙ রেখে যায়।
15 August 2026
জানালার ওপারে
যদিও ঘরের ভেতর কেউ আর থাকে না।
ধুলো জমে কাচে, তবু আকাশ দেখা যায়,
যেন অপেক্ষারও কোনো শেষ ঠিকানা নেই।
বাইরে একটি গাছ নীরবে বড় হতে থাকে,
তার ডালে পাখিরা আসে, আবার উড়ে যায়।
শীত আসে, পাতারা ঝরে পড়ে উঠোনে,
বসন্ত এসে শূন্য ডালগুলো ফুলে ভরায়।
জানালাটি তবু একই দিকে খোলা থাকে,
যেদিকে একদিন কেউ ফিরে আসার কথা ছিল।
হয়তো অপেক্ষা মানুষকে ধরে রাখে না,
শুধু তার ভেতর একটি দরজা খোলা রাখে।
তাই কেউ ফিরে না এলে পথ মরে যায় না আবার জানালা বন্ধ হয় না,
14 August 2026
নদী জানে
কার নীরবতা মিশে থাকে জলের গভীর নীলিমায়।
চরের কাশফুল হেলে পড়ে অকারণে দক্ষিণ হাওয়ায়,
যেন অদৃশ্য কেউ আজও এই পথ দিয়েই হেঁটে যায়।
বক উড়ে গেলে আকাশ কিছুক্ষণ সাদা হয়ে থাকে,
কদমের গন্ধ ভেসে আসে দূরের বর্ষার বন থেকে।
আমি জলের কাছে কোনো প্রশ্ন রাখি না আর,
কারণ স্রোত উত্তর দেয় না, শুধু বয়ে যেতে শেখে।
সন্ধ্যা নেমে এলে জেলের নৌকায় একটি প্রদীপ জ্বলে,
তার আলো নদীর বুকে দীর্ঘশ্বাসের মতো কেঁপে ওঠে।
মনে হয়, পৃথিবীর সব অপেক্ষাই একদিন জল হয়ে যায়,
শুধু কিছু নাম তলদেশের নুড়ির মতো থেকে যায় নীরবে।
যদি কোনো দিন আমাকে খুঁজে না পাও, নদীর ধারে এসো,
বাতাস নয়, স্রোতই তোমাকে আমার শেষ উচ্চারণ শোনাবে।
13 August 2026
The Eternal Chapter A Novel Book By Arman Rashid
Title: The Eternal Chapter
Sub-Title: A Novel
Author: Arman Rashid
ISBN: 978-984-35-9710-6
Published date: 10 Aug 2026
Click The Pdf Download Link: The Eternal Chapter
07 August 2026
শিউলি ঝরার শব্দ
রাত ফুরোবার আগে শিউলি গাছটি নীরবে হালকা হয়,
মাটি সাদা হয়ে ওঠে কারও অদেখা ফিরে আসায়।
আমি ঝরে পড়ার শব্দ শুনি না, শুনি এক দীর্ঘ নীরবতা,
যেন কোনো নাম আজও ভোরের শিশিরে আশ্রয় চায়।
দূরের বাঁশবনে বাতাস ধীরে ধীরে পথ ভুলে যায়,
নদীর জলে ভাসে আকাশের অপূর্ণ নীল উচ্চারণ।
একটি বক ডানা মেলে পশ্চিমের আলো ছুঁয়ে উড়ে গেলে,
বিকেল তার পেছনে ফেলে যায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার রঙ।
তুমি কি সত্যিই চলে গেছ? নাকি অন্য কোনো ঋতুতে
আমারই মতো দাঁড়িয়ে আছ কাশফুলের সাদা নির্জনতায়?
আজও জানালার পাশে রাখা মাটির প্রদীপটি সন্ধ্যা নামলে
অকারণে জ্বলে ওঠে, যেন তোমার ফেরার খবর জানায়।
আমি আর কাউকে খুঁজি না, শুধু ভোর হলে উঠোনে যাই,
দেখি, শিউলি আজও ঝরে পড়ে; অথচ তোমার অনুপস্থিতি কখনো ঝরে না।
26 July 2026
বাতাসের কাছে রেখে যাওয়া নাম
বাতাসের কাছে রেখে যাওয়া নাম
আরমান রশিদ
আজ ভোরে বাতাস এল ধানের শিষ ছুঁয়ে, অচেনা এক সুরে,
মনে হলো, সে বহু দূরের কোনো গ্রাম থেকে ফিরেছে।
তার হাতে ছিল শুকনো বকুলের গন্ধ, ভেজা নদীর শ্বাস,
আর একটি নাম, যা সে উচ্চারণ করল না।
হিজলপাতা মৃদু কেঁপে উঠল তার অদৃশ্য পদচারণায়,
শালিকেরা থেমে গেল তারের ওপর অসমাপ্ত গানের মতো।
নদী একবার শুধু মুখ তুলে তাকাল আকাশের দিকে,
তারপর আবার স্রোতের ভেতর ডুবিয়ে রাখল নিজের ভাষা।
আমি বাতাসকে কিছুই জিজ্ঞেস করিনি,
কারণ সে জানে, উত্তর দিলে কিছু রহস্য ভেঙে যায়।
শুধু দেখলাম, শুকনো পাতাগুলো উড়ে উড়ে
একটি অদেখা বৃত্ত এঁকে আবার মাটিতেই ফিরে এল।
আজ বুঝি, মানুষের নাম পাথরে নয়, বাতাসেই লেখা উচিত,
কারণ পাথর ভেঙে যায়, বাতাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম গল্প বহন করে।
23 July 2026
শেষ প্রদীপ
সাঁঝ নেমে এলে উঠোনের কোণে একটি প্রদীপ জ্বলে,
তার শিখা জানে, রাতকে জয় করা তার উদ্দেশ্য নয়।
সে শুধু অল্প আলোয় চিনিয়ে দেয় দরজার পুরোনো কাঠ,
আর বহুদিন না-খোলা জানালার নীরব কাচ।
দূরের বাঁশবনে বাতাস আজ খুব ধীরে কথা বলে,
মনে হয়, শব্দও কখনো ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম চায়।
পুকুরের জলে একটি তারা নেমে এসে ভেঙে যায়,
তবু আকাশের মুখে কোনো বিষাদের রেখা পড়ে না।
আমি প্রদীপের পাশে বসে হাত বাড়াই না,
আলোকে ছুঁতে গেলে তার নিঃসঙ্গতা ভেঙে যায়।
কিছু সান্নিধ্য দূরত্বেই সবচেয়ে উজ্জ্বল থাকে,
যেমন সুগন্ধ থাকে, অথচ ফুলটি আর চোখে পড়ে না।
রাত গভীর হলে প্রদীপ নীরবে তার আলো গুটিয়ে নেয়,
শুধু উষ্ণতাটুকু রেখে যায়, যেন কোনো অসমাপ্ত প্রার্থনা।
21 July 2026
যেখানে বাতাস তোমার নাম জানে
বহু ঋতু পেরিয়ে আজ আবার সেই পুরোনো পথের ধারে,
বটগাছটি এখনো সন্ধ্যার ছায়া গুনে রাখে নীরবে।
নদী তার স্রোতে বহু নাম ভাসিয়ে দিয়েছে দূরে,
তবু কিছু উচ্চারণ তলদেশ ছেড়ে কোথাও যায়নি।
শিউলি ঝরে, কদম ফোটে, হেমন্ত আবার ধান পাকে,
শীতের কুয়াশা ভোরের জানালায় সাদা চিঠি রেখে যায়।
জোনাকি অন্ধকারে ক্ষুদ্র আলো তুলে বলে,
হারিয়ে যাওয়া মানেই আকাশ থেকে মুছে যাওয়া নয়।
আমি আর কোনো প্রতীক্ষার হিসাব রাখি না,
সময়কে তার নিজের নদীর মতো বয়ে যেতে দিই।
যা ছিল, তা ঋতুর ভেতর রয়ে গেছে;
যা নেই, তা বাতাসের মতো পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে আছে।
আজ বুঝি, মানুষ চলে যায়, ঋতু বদলে যায়, নদীও পথ পাল্টায়,
তবু যেখানে বাতাস তোমার নাম জানে, সেখানে কোনো বিদায় শেষ বিদায় নয়।
18 July 2026
প্রিয় ফুল
ভেবেছিলাম পাশাপাশি কাটবে জীবনভর।
সময় এসে নীরব হাতে লিখল অন্য ভাগ্য,
এক নিমেষে ভেঙে দিল হৃদয়ের সব আগ্রহ।
যে পথ ধরে হেঁটেছিলাম দু'জন পাশাপাশি,
আজ সে পথে একাই হাঁটি, নেই তোমার হাসি।
স্মৃতিরা সব ঝরে পড়ে শুকনো পাতার মতো,
নীরব রাতে কান্নাগুলো জাগিয়ে রাখে কত।
জীবন এখন ফুলে ভরা, তবু রঙহীন দিন,
সব পেয়েও হারিয়ে ফেলি বেঁচে থাকার ঋণ।
হাজার সুখের ভিড়ের মাঝেও শূন্য লাগে বারবার,
কারণ তুমি হারিয়ে গেছ, হারিয়েছে আমার সংসার।
গোটা একটা বাগানও বৃথা আমার কাছে,
যখন প্রিয় ফুলটাই নেই তার মাঝে।
16 July 2026
আমৃত্যু মনে থাকবে
তুমি ছিলে ভোরের আলো, আমি নিশির ছায়া,
তোমায় ছুঁতে গিয়েই শুধু বেড়েছে নিরাশা।
শিশিরভেজা স্বপ্নগুলো রৌদ্রে হলো ক্ষয়,
তবু তোমার স্মৃতি আমার হৃদয় ছেড়ে নয়।
তুমি ছিলে নদীর স্রোত, আমি নীরব তীর,
তোমার ছোঁয়ার আশায় ছিল দিনগুলো অধীর।
সাগর ডেকে নিল তোমায় আপন বুকে টেনে,
আমি রইলাম বালুচরে তোমার নামই গেঁথে।
তুমি ছিলে পূর্ণিমা-চাঁদ, আমি আঁধার রাত,
তোমার আলো হারিয়েই বাড়ল বুকের ক্ষত।
জোনাকিরা শেখায় আমায় অন্ধকারের হাসি,
আমি শুধু তোমার স্মৃতি বুকে নিয়ে ভাসি।
তুমি ছিলে বকুলফুলের সুবাসভরা ডাল,
আমি যেন ঝরাপাতার নিঃস্ব নীরব কাল।
বসন্ত এল তোমার ঘরে রঙিন সুখের বেশে,
আমার ঋতু কাঁদতে শিখল শূন্যতারই শেষে।
তুমি ছিলে প্রদীপশিখা, আমি পোড়া সালতে,
জ্বলতে জ্বলতে শিখে গেলাম অশ্রু লুকিয়ে ফেলতে।
ছাইয়ের নিচে আগুন যেমন নীরব জেগে রয়,
আমার প্রেমও তেমনি আজ, নিভেও শেষ না হয়।
তুমি ছিলে নীল আকাশের উদাস সাদা মেঘ,
আমি ছিলাম পথিক শুধু, ক্লান্ত দিনের রেশ।
বৃষ্টি হয়ে ঝরলে তুমি অন্য কারও দ্বারে,
আমার আকাশ রইল শুধু বিদ্যুৎহারা ভারে।
যদি কোনো গভীর রাতে জেগে ওঠে মন,
স্মৃতির পাতা উল্টে দেখো হারানো সেই ক্ষণ।
দেখবে সেখানে লিখে রাখা একটিমাত্র নাম,
যে ভালোবেসে হারিয়েছিল জীবনেরই দাম।
পাওয়া যদি প্রেমের শেষ, হারানো তার প্রাণ,
অপূর্ণতাই অমর করে ভালোবাসার গান।
আমি মিশে যাব একদিন ধূলিরই অন্তরালে,
তবু তুমি আমৃত্যু থাকবে আমার হৃদয়তলে।
15 July 2026
কুয়াশার চিঠি
রাতের শেষ প্রহরে কুয়াশা নামে নীরব অক্ষরে,
জানালার কাচে রেখে যায় অচেনা কিছু সাদা পঙ্ক্তি।
আমি পড়তে যাই, অথচ শব্দগুলো ভোরের আলোয় মিশে যায়,
শুধু তোমার নামটি থেকে যায় শিশিরের মতো স্বচ্ছ।
দূরের তালগাছ স্থির, যেন বহুদিন কারও প্রতীক্ষায়,
নদীর বুকেও আজ অকারণ ঢেউয়ের অন্যমনস্কতা।
বাতাসের হাতে উড়ে আসে শুকনো কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি,
মনে হয়, ঋতুও বুঝি তোমার অনুপস্থিতি শিখে ফেলেছে।
একটি সাদা বক একা উড়ে যায় পশ্চিমের আকাশ পেরিয়ে,
তার ডানায় বিকেলের নিঃসঙ্গ আলো কেঁপে ওঠে।
আমি জানি, কিছু যাত্রা ফিরে আসার জন্য নয়,
তবু প্রতিটি পথের শেষে তোমারই ছায়া দাঁড়িয়ে থাকে।
আজও ভোর হলে কুয়াশা আমার দরজায় একটি চিঠি রেখে যায়,
খুলি না কখনো, কারণ জানি, ভেতরে শুধু তোমারই নীরবতা লেখা।
14 July 2026
পূর্ণিমার গন্ধ
আজও পূর্ণিমা উঠলে বাতাসে তোমার নামের গন্ধ পাই,
জোছনার সাদা আলো নেমে আসে অচেনা এক অভিসারে।
নদী থমকে শোনে, কে যেন নীরবে তোমাকে ডাকে,
কাশফুল কেঁপে ওঠে অদৃশ্য কোনো স্পর্শের ইশারায়।
শিউলি-ভেজা ভোরে ঘাসের বুকে শিশির হয়ে জাগো,
পাখির প্রথম ডাকে তোমার নীরবতা মিশে যায়।
বটের ছায়ায় বসে থাকা বিকেল হঠাৎ দীর্ঘ হয়,
যেন সময়ও তোমার প্রতীক্ষায় পথ ভুলে দাঁড়িয়ে থাকে।
আমি আকাশে তাকাই না, তবু আকাশ নেমে আসে চোখে,
চাঁদকে দেখি না, দেখি তোমার অনামা আলোর অবয়ব।
বৃষ্টি থেমে গেলে মাটির গন্ধে তুমি ধীরে ধীরে ফুটে ওঠো,
যেন পৃথিবী তোমার স্মৃতি লুকিয়ে রেখেছে গভীরতম স্তরে।
ভালোবাসা বুঝি কোনো মানুষের নাম নয়, এক অনন্ত ঋতু,
যেখানে তুমি না থাকলেও, তোমার আলোয় আজও জেগে থাকে পৃথিবী।





%20(1).jpeg)














